পানি রপ্তানি করবে বাংলাদেশ

ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৬ আশ্বিন ১৪২৭

পানি রপ্তানি করবে বাংলাদেশ

সেমিনারে অভিমত

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২০

print
পানি রপ্তানি করবে বাংলাদেশ

ঢাকা শহরের তাপমাত্রা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি। এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা নগরিক জীবন এবং বাস্তুসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিভিন্ন রোগ-জীবাণুর টিকে থাকার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে রোগের প্রকোপও বাড়ছে।

এ সমস্যা নিরসনে জলবায়ু নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে ব-দ্বীপ তথা ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ সুপেয় পানি রপ্তানি করতে পারবে।

রোববার ‘ঢাকা মেগাসিটির উষ্ণায়ন প্রশমন কৌশল : টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্টাডিজ (বিজ) মিলনায়তনে আস্ট্রেলিয়ার কার্টেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগ যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে।

এ সময় পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, বাংলাদেশ যেমন ডেল্টা প্ল্যান নিয়েছে তেমনি পরিকল্পনা প্রতিবেশী দেশগুলো হাতে নেয়নি। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। পানির উৎস এখানে অফুরন্ত। আমরা এর যথাযথ ব্যবহার করব। ব-দ্বীপ তথা ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ সুপেয় পানি রপ্তানি করতে পারবে।

তিনি বলেন, আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে হবে। আমরা ছাদ-কৃষির কথা বলছি। এটা নিয়ে ভালোভাবে গবেষণার প্রয়োজন আছে। কারণ ছাদ-কৃষিতে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হচ্ছে। এমনিতেই প্রতিবছর ভূগর্ভস্থ পানির স্থর নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই ছাদ-কৃষির জন্য বৃষ্টির পানি ধরে রেখে সেটা ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ সময় তিনি সারা দেশে ভূগর্ভস্থ পানির ম্যাপিং করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এটি করা হলে সারা দেশে ভূগর্ভস্থ পানির একটি চিত্র সম্পূর্ণভাবে পাওয়া যাবে বলেও জানান পরিকল্পনা কমিশনের এই সদস্য।

সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতের গুজরাটে বাড়িতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা বাধ্যতামূলক। এমনটা ঢাকাতেও করা উচিত।’

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ঢাকা শহরের তাপমাত্রা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি। এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা নগরিক জীবন এবং বাস্তুসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিভিন্ন রোগ-জীবাণুর টিকে থাকার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে রোগের প্রকোপও বাড়ছে।

বক্তারা আরও বলেন, এছাড়া এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা মানুষের শরীর এবং মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসকরণ, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ এবং ঘনবসতিপূণ এলাকায় যথেষ্ট পরিমাণ জলাশয় নিশ্চিত করাসহ কার্যকরী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশ ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে ২০১৮ সালে ডেল্টা প্ল্যান বা বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ হাতে নেয়। এতে বন্যা, নদীভাঙন, নদী শাসন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশলও নির্ধারণ করা হয়েছে।