স্বস্তির ছাপ বাণিজ্য মেলায়

ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১১ মাঘ ১৪২৬

স্বস্তির ছাপ বাণিজ্য মেলায়

এম কবীর ৯:৫২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

print
স্বস্তির ছাপ বাণিজ্য মেলায়

ঢাকা আন্তর্জাতিক ২৫তম বাণিজ্য মেলার চৌদ্দতম দিনে এসে স্বস্তি প্রকাশ করছেন মেলার আয়োজক কমিটি ও বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন মালিকরা। মেলা শুরুর দিকে দর্শনার্থী ও ক্রেতা সমাগম তেমন দৃশ্যমান না থাকায় কিছুটা হতাশায় ছিলেন তারা। কিন্তু মেলার আয়োজকরা বিগত মেলার কথা চিন্তা করে হতাশায় না থাকলেও সময় গড়ালে দর্শনার্থীর ভিড় বাড়বে সেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।

অবশেষে মেলায় তার স্বকীয়তা ফিরে পাওয়ায় দুই পক্ষই স্বস্তিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাছাড়া দর্শনার্থীর ভিড়ে কেনাবেচাও তুঙ্গে। পুরো মেলার দৃশ্যপট ব্যস্ততম।

সরেজমিন দেখা যায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকেই ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। পছন্দের পণ্য ক্রয়ে দর্শনার্থীরা ছুটে চলছেন বিভিন্ন স্টল প্যাভিলিয়নে। তবে শীতের পোশাক, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও ক্রোকারিজ পণ্যের দোকানগুলোতে ভিড় বেশি। পণ্য বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানিরা।

ক্রোকারিজ স্টলের বিক্রেতা রাইসুল ফাহিম জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ ক্রেতার সংখ্যা অনেক। দর্শনার্থী পূর্ণ হওয়ায় বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।

মেলায় ব্লেজার বিক্রিতে রাজকীয় অফার চালু করেছে বেশ কিছু স্টল। তাদের মধ্যে সাইফা হ্যান্ডিক্রাফট নামের এক স্টলের বিক্রয়কর্মী মো. আকাশ রাজকীয় অফার নিয়ে জানান, প্রতি বছরই মেলার শেষ প্রান্তে এসে অফারে বিভিন্ন ফ্যাশনের ব্লেজার বিক্রি করা হয়ে থাকে।

এ বছর মেলার প্রথম সপ্তাহ থেকেই বেশির ভাগ স্টলে রাজকীয় অফার দেওয়া হচ্ছে। রাজকীয় অফারের আওতায় এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে ব্লেজার বিক্রি করছেন। তাছাড়া এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকার মধ্যেও ভালো ব্লেজার বিক্রি করা হচ্ছে। সামনে আরও আকর্ষণীয় অফার দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পোশাক বিক্রেতারা। ক্রেতারা সব ধরনের পোশাক দেখলেও মূলত বেশি বিক্রি হচ্ছে শীতের পোশাক।

কসমেটিকস ও প্রসাধনী সামগ্রীর স্টলগুলোতে ক্রেতা সমাগম সব থেকে বেশি। স্টল মালিক ও বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুরুর দিন থেকেই তেমন কোনো বেচাকেনা হয়নি। কিন্তু এখন থেকে ক্রেতার সমাগমে ভালো বিক্রি হচ্ছে।

দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামের প্রধান বিক্রয় কর্মকর্তা ইয়াসিন গনি মেলার শুরুতে দর্শনার্থী ও ক্রেতার সমাগমে অসন্তুষ্ট প্রকাশ করলেও তিনি আজ খুশি ভালো বেচাকেনা ও ক্রেতাদের আগমনে। তিনি জানালেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে শুরুতে মানুষ কম আসায় কিছুটা হতাশায় ছিলাম কিন্তু এখন মেলায় ক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খুবই আনন্দিত। আশা করছি বাকি দিনগুলোতে আরও বেশি লোকসমাগমে বেচাকেনা বেড়ে যাবে।

ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেলায় ঘুরাঘুরির পাশাপাশি একই প্রাঙ্গণে অনেক পণ্য ও পছন্দের কেনাকাটা করা যায়। কিন্তু এ বছরের মেলায় আয়োজক কমিটি থেকে কঠোর নির্দেশনার পরও হকারি পণ্য পাওয়া যাচ্ছে যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় কাম্য নয়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অবশ্যই আমলে নিয়ে মেলাকে সাফল্যমণ্ডিত করবে সেটাই প্রত্যাশা তাদের।

অন্যদিকে পণ্য ক্রয় করে ক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করে যাচ্ছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। ভোক্তার যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সহিত বিবেচনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

মেলার ভিড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা দেখা গিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মেলার প্রবেশ পথ ও ভিতরে টহলের পাশাপাশি সন্দেহজনকদের তল্লাশির আওতায় নিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে।

শুরুতে মেলায় দর্শনার্থী ও ক্রেতা কম থাকা প্রসঙ্গে মেলার আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, প্রতি বছরই মেলার শুরুরদিকে দর্শনার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম থাকে। আর বেচাকেনার বিষয়টি পণ্যেও গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে। পণ্যেও গুণাগুণ ভালো থাকলে অবশ্যই ক্রেতা বাড়বে। তাছাড়া মেলায় যাতে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি না হয় সেজন্য ভোক্তা অধিদফতর রয়েছে।

কেউ নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করলে অবশ্যই তারা ব্যবস্থা নেবেন। ক্রেতা-দর্শনার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, মেলার প্রাণ হচ্ছে দর্শনার্থী। এখন থেকে মেলা তার প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলেই বেচাকেনা বেড়েছে। বাকি দিনগুলোতে আরও বেশি দর্শনার্থীর আগমনে মেলা আরও ঐতিহ্যমণ্ডিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।