নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ১২ বছর কর অব্যাহতি সুবিধা পাচ্ছে 

ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১৫ মাঘ ১৪২৬

নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ১২ বছর কর অব্যাহতি সুবিধা পাচ্ছে 

নিজস্ব প্রতিবেদক ১:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

print
নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ১২ বছর কর অব্যাহতি সুবিধা পাচ্ছে 

টানা ১২ বছরের জন্য নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কর মওকুফের সুবিধা পাচ্ছে। জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাওয়া বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ১২ বছর কর অব্যাহতি সুবিধা পাচ্ছে। তবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে এ সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৯ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুবিধার কথা জানিয়েছে।

 

এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তবে প্রজ্ঞাপনে প্রাইভেট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানিগুলোকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি ব্যতীত জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাওয়া বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিন্মবর্ণিত সুবিধাগুলোর আওতায় আসবে।

সুবিধাগুলো হলো-

বেসরকারি পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানিগুলো কেবল উৎপাদন ব্যবসা হতে অর্জিত আয়ের ওপর তাদের বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ হতে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি পাবে।

এছাড়া কোম্পানিতে কর্মরত বিদেশি ব্যক্তিদের উপর বাংলাদেশে আগমনের তারিখ হতে পরবর্তী তিন বছরের জন্য কোম্পানির বৈদেশিক ঋণে সুদ, কোম্পানি কর্তৃক প্রদেয় রয়েলিটি টেকনিক্যাল ফি এবং কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের ফলে উদ্ভূত মূলধনী মুনাফার উপর প্রযোজ্য কর হতে অব্যাহতি পাবে।

আরো বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলোকে যথাযথভাবে হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে এবং আয়কর অধ্যাদেশ অনুসারে তাদেরকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎকেন্দ্রের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি ও জমি কেনার ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি দেওয়াসহ নতুন করে সরকারের কাছে ১০টি সুবিধা চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত প্রস্তাব দিয়েছিল বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ।

বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেসব সুবিধা চেয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের আমদানির অনুমতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের (রেন্টাল বা ভাড়াভিক্তিক কেন্দ্রগুলো ছাড়া) মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ বছর করা (বর্তমানে সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এসব কেন্দ্রের মেয়াদ ১৫ থেকে ২০ বছর), বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গঠিত শ্রমিক কল্যাণ তহবিল বিলুপ্ত করা।

উল্লেখ্য, দেশে এখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ১৩৪টি। এর মধ্যে ৮০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিক বেসরকারি উদ্যোক্তারা। দেশে স্থাপিত বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। আর উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ বেসরকারি খাতের।