উল্টো বেড়েছে খেলাপি ঋণ

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

উল্টো বেড়েছে খেলাপি ঋণ

জাফর আহমদ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

print
উল্টো বেড়েছে খেলাপি ঋণ

খেলাপি ঋণ নিয়ে সরকারের যখন যুদ্ধ ঘোষণা করার অবস্থা। ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকও বিভিন্ন রকম নীতি সহায়তা ঘোষণা করেছে। সর্বশেষ ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে পুনঃতফসিলির সুযোগ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর প্রভাবে বেশ কিছু ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমে এলেও উল্টোপথে ন্যাশনাল ব্যাংক। বেসরকারি এ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ তো কমেইনি বরং গত তিন মাসে আরও সাড়ে চারশ’ কোটি টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এখনো লাভে আছে ব্যাংকটি, তবে সে মুনাফা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়ে গেছেন শেয়ার হোল্ডাররা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৫১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তিন মাস আগে ৩০ জুন পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকটির খেলাপির ঋণ ছিল ২ হাজার ৪০৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৬৬৭ কোটি ২৭ টাকা।

তিন মাসের ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ বেড়েছে এক হাজার ১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আর খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৯৫৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। প্রভিশন সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে এই ব্যাংকটি। প্রভিশন সংরক্ষণকে খেলাপি ঋণের রক্ষা কবচ বলা হয়। খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের মুনাফা থেকে এ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণের টাকা দেওয়ার শেষ তারিখ থেকে ৬ মাস, ৯ মাস ও এক বছর সময়ের মধ্যে ঋণ ফেরত না দিলে ওই ঋণ সাবস্যান্ডার্ড (এসএস) বা প্রাথমিক মানের খেলাপি ঋণ, ডাউটফুল (ডিএফ) বা মধ্যম মান এবং ব্যাড অ্যান্ড লসের (বিএল) মন্দ পর্যায়ের ঋণে পরিণত হয়। এ সব ঋণের বিপরীতে ২৫ শতাংশ, ৫০ শতাংশ ও শতভাগ হারে প্রভিশন রক্ষা করতে হয়।

তথ্য অনুযায়ী ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট ৩ হাজার ৩৫১ হাজার ২৪ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে ‘সাব-স্ট্যান্ডার্ড’ বা প্রাথমিক মানের খেলাপি ঋণ ৩৫৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা; ‘ডাউটফুল’ ঋণ ১৪৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং মন্দমানের ঋণ দুই হাজার ৭৪৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এ খেলাপি ঋণের বিপরীতে ২ হাজার ৪৮৪ কোটি ৯৪ টাকা প্রভিশন সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও ব্যাংকটি প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পেরেছে এক হাজার ৫২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা, প্রভিশন ঘাটতি ৯৫৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

সরকারের দেওয়া সুযোগ নিতে না পারা এবং উল্টো খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়া নিয়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বা শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কেউই কথা বলতে চাননি।