শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের উদ্যোগ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

এসডিজি ও উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা

শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের উদ্যোগ

জাফর আহমদ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৩, ২০১৯

print
শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের উদ্যোগ

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠপুস্তক বোর্ড। ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-এসডিজি ও ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ প্রতিষ্ঠাকে সামনে করে শিক্ষা কার্যক্রম সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দফতর, অধিদফতর থেকে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।

উন্নত দেশ গড়তে হলে দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত নাগরিক গড়তে হবে। এ জন্য পরিকল্পিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যে শিক্ষা বৈষম্যহীন মানবিক গুণসম্পন্ন উন্নত জাতি গড়ে তুলবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকারের বিভিন্ন দফতরের পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। পাঠ্যক্রমের পরিমার্জনের এ বিষয়টি খুবই সময় উপযোগী ও যৌক্তিক বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

তার মতে, ২০৩০ সালে দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। যেখানে থাকবে মানবিক গুণসম্পন্ন, প্রযুক্তিনির্ভর ও সামাজিক মূল্যবোধ সমৃদ্ধ দেশপ্রেমের শিক্ষা। এটা করা গেলে ২০৪১ সাল নাগাদ সরকারের যে উন্নয়ন লক্ষ্য নির্ধারিত আছে সেটা বাস্তবায়ন সহজ হবে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিমার্জনের ক্ষেত্রে শিল্প তথা যারা কর্ম দেবে তাদের মতামত চাওয়া প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবেলা ও ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টকে সঠিকভাবে কাজ লাগানো। এ জন্য তুলনামূলক নিচের ক্লাসগুলোতে জলবায়ু সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান তুলে ধরতে হবে। উপরের ক্লাসগুলোতে এ সব সম্পর্কিত আরও জটিল বিষয়গুলো উপস্থাপন জরুরি। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-এসডিজি বাস্তবায়নের ৪ নম্বর এজেন্ডায় সরাসরি শিক্ষার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

এ এজেন্ডায় সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষালাভের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। সবার জন্য সমতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রম পরিমার্জন ভূমিকা রাখবে বলে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত খোলা কাগজকে বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের ক্ষেত্রে মুখস্তনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে বিশ্লেষণমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা জরুরি। এটা করা গেলে শিক্ষার্থীদের মননশীল মেধার বিকাশ ঘটবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিত্যনতুন চিন্তা করতে শিখবে। এটা করতে পারলে তোতাপাখির মুখস্থনির্ভর ও তথাকথিত সৃজনশীলতার বাইরে সময়-উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে। এ জন্য তিনি জলবায়ুসহ সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিচের ক্লাসে পরিচিতমূলক ও উপরের ক্লাসে বিশ্লেষণ ও প্রয়োগমুখী করার ওপর জোর দেন।

এসডিজি বাস্তবায়নে প্রথম তিনটি এজেন্ডা হলো, সর্বত্র সব ধরনের দারিদ্র্যের অবসান, ক্ষুধার অবসান, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টিমান অর্জন এবং টেকসই কৃষির প্রসার এবং সকল বয়সী মানুষের জন্য সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ। ২০৪১ সাল নাগাদ দেশকে উন্নত করতে সরকার যে সব কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তার মধ্যে হলো পল্লী অঞ্চলে অর্থ সরবরাহ তথ্য গরিব মানুষের নাগালের কাজ ও সম্পদ পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য কর্মমুখী শিক্ষার দিকে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। পল্লী অঞ্চলের মানুষের ব্যাংক ঋণ ও ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে অর্থ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আতিউর রহমান বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা মুখস্থনির্ভর হয়ে গেছে। সেখানে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক মূল্যবোধ হারিয়ে গেছে। আগে যেটা ছিল, এখন সেটা নেই। এগুলো ফিরিয়ে আনতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

২০৩০ সাল নাগাদ এসডিজি ও ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ গড়তে শিক্ষাক্রমকে এমনভাবে সাজাতে হবে সেখানে এ সব বিষয়ের সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকে। বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত আছে। ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টে পৌঁছতে হলে ভিন্ন ভিন্ন এ সব শিক্ষাকে সময়ের উপযোগী করে সমন্বয় করতে হবে।