প্রবৃদ্ধি সুতা কাটা ঘুড়ির মতো

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রবৃদ্ধি সুতা কাটা ঘুড়ির মতো

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৩, ২০১৯

print
প্রবৃদ্ধি সুতা কাটা ঘুড়ির মতো

বেসরকারি বিনিয়োগ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২২-২৩ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। অথচ প্রবৃদ্ধি ৫ থেকে ৮ শতাংশ হয়েছে। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহও সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে কম। মানুষ ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে পারছেন না। পুঁজিপণ্য আসা নেতিবাচক হয়ে গেছে।

প্রবৃদ্ধি এখন সুতা কাটা ঘুড়ির মতো। বাস্তবতার সঙ্গে সুতার যে সংযোগ থাকে সেটা এখানে নেই। প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক উন্নয়নের যে উপাখ্যান তৈরি হয়েছে তা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে রোববার সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। দেশের অর্থনীতির হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় দেশের অর্থনীতিতে চারটি প্রধান সমস্যার বিস্তারিত তুলে ধরে সিপিডি। এগুলো হলো- রাজস্ব আদায়ে কম গতি, ব্যাংক খাতের দুর্দশা, শেয়ারবাজারে সংকট এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ঝুঁকি।

সিপিডির মতে, ভ্যাট আইনে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংক খাতের ঋণখেলাপিদের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। এ জন্য শেয়ারবাজারে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), ব্যাংক হিসাব ও জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে সিপিডি।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি? ফৌজদারি ব্যবস্থা দিয়ে দুর্নীতি দূর করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা অনেক বেশি। আমরা চাচ্ছি অর্থনীতিতে সংস্কার, যাতে করে নেতিবাচক কার্যক্রম উৎসাহিত না হয়। একদিকে ব্যাংকের টাকা ফেরত দেবে না, ট্যাক্স দেবে না, ঘুষ খাবে; আবার অন্যদিকে শুধু ক্যাসিনো বন্ধ করতে চাইবেন এটা একটার সঙ্গে আরেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন, তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিচার-বিশ্লেষণের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে তথ্য-উপাত্তের লভ্যতা ক্রমান্বয়ে দুষ্কর হয়ে যাচ্ছে। যে সমস্ত তথ্য-উপাত্ত আমরা পাচ্ছি তা চলমান সময়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না। তারপরও যেসব তথ্য উপাত্ত আসছে তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও সাম্প্রতিককালে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। তথ্য-উপাত্ত না থাকলে অর্থনীতির ভেতরে বিচার-বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এক ধরনের স্বচ্ছতার অভাববোধ তৈরি হয়। আমাদের ধারণা, এই স্বচ্ছতার অভাব আক্রান্ত করে নীতিনির্ধারকদের।

দেবপ্রিয় আরও বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গতিশীলতা, সংযুক্তি ও সমন্বয়ের অভাব অনুভব করছি। এখন একনীতিকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনা চলছে। অর্থাৎ সরকার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগনীতি ভিত্তিক একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে প্রবেশ করেছে।