পিয়াজ সিন্ডিকেটে দৈনিক লোপাট ৫০ কোটি টাকা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পিয়াজ সিন্ডিকেটে দৈনিক লোপাট ৫০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৩, ২০১৯

print
পিয়াজ সিন্ডিকেটে দৈনিক লোপাট ৫০ কোটি টাকা

পিয়াজের বাজারে কারসাজির মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০ কোটি টাকা লোপাট করছে ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট। এভাবে গত চার মাসে ভোক্তাদের ৩ হাজার ১৭৯ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। চার মাসে সিন্ডিকেট যে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে তা দিয়ে দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি (সিসিএস) এ অভিযোগ করে।

টিসিবি ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত মূল্যতালিকা এবং নিজস্ব উৎস থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব বের করেছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ বলেন, কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে জুলাইয়ে ৩৯৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, আগস্টে ৪৯১ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সেপ্টেম্বরে ৮২৫ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অক্টোবরে ১ হাজার ৪৬৪ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ভোক্তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে সিন্ডিকেট। সম্প্রতি পিয়াজের খুচরা মূল্য ১২০-১৫০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি এখন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মূলত চার মাস আগে পিয়াজের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। ঈদুল আজহার এক মাস আগে হঠাৎ করেই পিয়াজের দাম বাড়ানো হয়। সেই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে ২৪ বার পিয়াজের মূল্য ওঠা-নামা করেছে। পিয়াজের মূল্যের এই ওঠা-নামার পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করেছে।

সরবরাহ কম ও আমদানি খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঈদুল আজহার এক মাস আগে কোথাও সরবরাহ ঘাটতি ছিল না এবং আমদানি খরচ বেশি ছিল না। শুধু ঈদ ঘিরে পিয়াজের দাম বাড়ানো হয়। কিন্তু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা অব্যাহতভাবে দাম বাড়াতে থাকে।

এ সময় আরও বলা হয়, ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ১৩ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট শনাক্ত করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী অন্তত পাঁচবার স্বীকার করেছেন- পিয়াজের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেট জড়িত। কিন্তু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে সিসিএস চারটি দাবি জানায়। এগুলো হলো- সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো; দ্রুত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পিয়াজের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া; যে কোনো পণ্যে সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্য ঘোষণা করা এবং ভোক্তা অধিকার অধিদফতরে একটি সেল গঠন ও সার্বক্ষণিক তদারকি করা।