৫ বছরে অব্যবহৃত ৮০ শতাংশ

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

১০০ কোটি টাকার এসএমই ঋণ

৫ বছরে অব্যবহৃত ৮০ শতাংশ

জাফর আহমদ ১০:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

print
৫ বছরে অব্যবহৃত ৮০ শতাংশ

নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ১০০ কোটি টাকা তহবিল গঠন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৪ সালে এ তহবিল গঠন করা হয়। পাঁচ বছরে বিতরণ করে মাত্র ২০ কোটি টাকা। ৮০ কোটি টাকা অব্যবহৃত পড়ে আছে। ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট থাকলেও ছোট উদ্যোক্তারা কম সুদের টাকা না নেওয়ার কারণ অনুসন্ধানে নামছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘কটেজ মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’ স্কিম তৈরি করে। এই তহবিলের উদ্দেশ্য হলো- যে সব উদ্যোক্তার ছোট ব্যবসা আছে কিন্তু তহবিলের অভাবে ব্যবসা বড় করতে পারেনি, জামানতের অভাবে কোনো ব্যাংক থেকে ঋণও পাননি, তাদের খুঁজে বের করে বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ হারে ঋণ দেওয়া। একজন গ্রাহক বিনা জামানতে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে।

এ জন্য ৪০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ তহবিল থেকে ১৮ কোটি টাকা ও ৭টি প্রতিষ্ঠান দুই কোটি টাকা গ্রহণ করে ছোট উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করে। বাকি ৮০ কোটি টাকা ২০১৪ সাল থেকেই অব্যবহৃত থেকে যায়। মূলত চড়া সুদের এনজিও ঋণের বিকল্প হিসেবে ছোট উদ্যোক্তা তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে এ তহবিল গঠন করে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ আরও সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত বলে মনে করেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বিআইডিএস-র গবেষক ড. জায়েদ বখত।

উদ্যোক্তা তৈরিতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়ে তিনি খোলা কাগজকে বলেন, ছোট ছোট উদ্যোক্তা তৈরিতে ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহককে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তার আগে ব্যাংকগুলোকে ট্রেড অনুযায়ী ভাগ ভাগ করে দিতে হবে কোন ব্যাংক কোন ট্রেডে এই জামানতবিহীন ঋণ বিতরণ করবে। এ সব পদ্ধতি অনুসরণ করলে ঋণ বিতরণ সহজ হবে। নতুন নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি হবে।

যে সব বাণিজ্যিক ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন বিতরণ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছিল সেগুলো হলো- এবি ব্যাংক, বিডিবিএল, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ্ ব্যাংলা, ইস্টার্ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউসিবি ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক উল্লেখযোগ্য। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অগ্রণী এসএমই, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, বে লিজিং, সিএপিএম ভেনচার, ফারইস্ট ফাইন্যান্স ইত্যাদি।

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে রাজি হননি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র আনোয়ার হোসেন। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগ নিলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের জামানতসহ উচ্চ সুদের নিজস্ব ঋণের বাইরে এ পুনঃঅর্থায়নের কম সুদের ঋণ বিতরণ করতে রাজি হন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ ধরনের পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণে উদ্যোগী হয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করলেও শেষ পর্যন্ত আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, অনেকে ভুলে যায়। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ বছর আগে ১০০ কোটি টাকার এ তহবিল গঠন করলেও শেষ পর্যন্ত কমিয়ে ৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ এ তহবিল পরিচালনার দায়িত্বে আছে। এমএমইএ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে খোলা কাগজকে বলেন, উদ্যোক্তা তৈরিতে জামানত ছাড়া ঋণ কেন গ্রাহক নিচ্ছে না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এসএমই খাতের ছোট্ট ঋণ বিতরণে অনীহা রয়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হওয়ায় ছোট্ট ঋণের প্রতি সরকারের আগ্রহ বেশি। অন্যদিকে ২২ থেকে সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ সুদের ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির বদলে প্রান্তিক মানুষ এনজিওগুলোর জালে আটকে পড়ে।

অন্যদিকে ঋণ নেওয়ার জটিলতার কারণে এসব মানুষ ব্যাংকমুখি হয় না। টাকার প্রয়োজন মেটাতে চড়া সুদের মহাজনি ঋণের দ্বারস্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, এ সব গ্রাহককে কম সুদের ব্যাংক ঋণমুখি করতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।