প্রবৃদ্ধি কমে ৭.২ শতাংশ হবে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৯ কার্তিক ১৪২৬

প্রবৃদ্ধি কমে ৭.২ শতাংশ হবে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ১০:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

print
প্রবৃদ্ধি কমে ৭.২ শতাংশ হবে

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক; যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত বছর একই সময়ে ৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। রপ্তানি কমে যাওয়া, পণ্য ও সেবার অবদান হ্রাস পাওয়ার কারণে চলতি বছরে জিডিতে ঝাঁকুনি লাগবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ বার্নাড হ্যাভেন। বক্তব্য রাখেন কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন, লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

মার্সি টেম্বন বলেন, বাংলাদেশ ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছে। ২০০৭ সালে এসেছিলাম তখন বাংলাদেশ এ অবস্থায় ছিল না। বাংলাদেশ অনেক বিনিয়োগ করেছে। ধীরে ধীরে সুফল পাওয়া যাবে। বিশ্বব্যাংক বলছে, একই সময়ে কৃষি খাতে ৩, শিল্পে ৯ ও সেবা খাতে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে কৃষি ও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি কমছে। গত অর্থবছর একই সময়ে কৃষি ৩ দশমিক ৫, শিল্পে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ শতাংশ।

রপ্তানিতে ঝাঁকুনি লাগার পেছনে কাজ করছে এই রপ্তানি, পণ্য ও সেবার প্রবৃদ্ধি কমে আসা। গতবারের তুলনায় এবার এ তিন খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তিতে পরিণত হয়েছে অভ্যন্তরীণ ভোগ। এবারও ভোগ কিছুটা বাড়ছে। তবে বৃদ্ধি হার বেশি না হওয়ার কারণে প্রবৃদ্ধিকে টেনে গত বছরের জায়গা নিয়ে যেতে পারবে না বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার অভ্যন্তরীণ ভোগ ৬ দশমিক ২ শতাংশ হবে। গত বছর হয়েছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

সিনিয়র অর্থনীতিবিদ বার্নাড হ্যাভেন বলেন, গতবছর রপ্তানি আয় হয়েছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশ। এবার কমে ৭ দশমিক ২ শতাংশ হবে। তারপরও এবারের রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধির জোরালো হার এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিকে তরান্বিত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে বিশ্ববাজারে দুর্বলতা বিরাজ করছে। বিক্রয়মূল্য কমে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে চায়নাদের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হচ্ছে। ক্রেতারা এখন সস্তায় বাজার খুঁজছে। মূল্য প্রতিযোগিতায় আমাদের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বাজার সস্তা হয়ে যাচ্ছে। ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে পেরে ওঠা যাচ্ছে না। এসব মোকাবেলা করা অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এ কারণে রপ্তানি প্রভাব পড়ছে। গত তিন মাসের রপ্তানিতে ইতোমধ্যে এর প্রভাব পড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর তিনি মাসে প্রায় দুই শতাংশ কমে গেছে। আগামী মাসগুলোতে এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি হলো প্রবাসী আয়। প্রবাসী আয় ইতিবাচক ধারাতে থাকলেও এ ধারা অব্যাহত রাখতে বর্তমান গৃহীত সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলো যথেষ্ট নয়। প্রবাসী আয়ের ধারাকে টেকসই উন্নয়নের ধারাতে নিয়ে যেতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থার বাজারমুখী করতে হবে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি তৈরি করতে হবে। ড. জাহিদ হোসেন সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে জোর দিতে পরামর্শ দেন। যেহেতু সরকার বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এজন্য এ সব কাজে জোর দিতে হবে।