গণপূর্তে ১০ খাতে দুর্নীতি

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গণপূর্তে ১০ খাতে দুর্নীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

print
গণপূর্তে ১০ খাতে দুর্নীতি

গণপূর্ত অধিদফতরে দুর্নীতির ১০টি উৎস চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রাক্কলন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি পদে রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি। এসব দুর্নীতির সঙ্গে ঠিকাদার আর কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। দুদকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এই দুর্নীতি প্রতিরোধে ২০ দফা সুপারিশও করেছে সরকারের সংস্থাটি।

বুধবার (৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের হাতে তুলে দেন দুদকের কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান।

দরপত্র প্রক্রিয়াতেই দুর্নীতি বেশি হয় বলে দুদকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে; এর মধ্যে রয়েছে যথাযথভাবে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করা, অপছন্দের ঠিকাদারকে কাজ না দেওয়া, অস্বাভাবিক মূল্যে প্রাক্কলন তৈরি, ছোট ছোট প্যাকেজে প্রকল্প প্রণয়ন, দরপত্রের শর্ত উপেক্ষা করা। এছাড়া নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার; প্রকল্পের প্রণয়ন, তদারকি, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কাজে ধীরগতি; প্রয়োজনের তুলনায় কম বরাদ্দ; প্রকল্পের অনাবশ্যক ব্যয় বৃদ্ধি; স্থাপত্য ও কাঠামোগত নকশা চূড়ান্তে বিলম্ব; প্রত্যাশী সংস্থার প্রয়োজনমতো জরুরিভিত্তিতে কাজ শেষ না করা; সেবা প্রদানের বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসহযোগিতা; সময়মতো ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ না করা এবং বরাদ্দ থাকার পরও ঠিকাদারদের আংশিক বিল পরিশোধ করাও চিহ্নিত হয়েছে দুদকের প্রতিবেদনে।

দুদক কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, দুদক ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে টিম গঠন করেছে। এক একটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কে এক একটি টিম। ২৫টির মধ্যে আজকের প্রতিবেদনটি পঞ্চদশ। এই প্রতিবেদনের মূল বিষয় হচ্ছে গণপূর্ত অধিদফতর। এই প্রতিবেদনটি এক ধরনের পর্যবেক্ষণ বা সংক্ষিপ্ত জরিপ।

দুদকের কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, এই কাজটি করতে এই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্টেক হোল্ডার, ঠিকাদার ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন, এই মন্ত্রণালয়ের অডিট রিপোর্ট, বার্ষিক প্রতিবেদন সবকিছু পর্যালোচনা করা হয়েছে।

দুদকের এই প্রতিবেদনকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, এই প্রতিবেদন আমাদের কাজের গতি বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা আনতে এবং জবাবদিহির ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই গাইডলাইনকে আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব। এর ভিত্তিতে যদি তদন্ত করতে হয়, তাও করবেন বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দায়সারা গোছের রিপোর্ট পেলাম আর দেখলাম, এটার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের সামনে গণপূর্ত অধিদফতরের দুর্নীতির উৎসগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
দুর্নীতির ক্ষেত্রগুলো-
দরপত্র প্রক্রিয়া : দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি খুঁঁজে পেয়েছে দুদক, যেমন : অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, দরপত্রের তথ্য ফাঁস, সমঝোতার নামে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এজেন্ট ঠিকাদার নিয়োগ, বার বার নির্মাণকাজের নকশা পরিবর্তন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, টেন্ডারের শর্তানুসারে কাজ বুঝে না নেওয়া, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেরামত বা সংস্কার কাজের নামে ভুয়া বিল ভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা/প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বেনামে বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ এবং ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধালাভ।

গণপূর্ত অধিদফতরের বৃহৎ পরিসরের কাজ ছাড়াও মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে। এ বরাদ্দের বিপরীতে কাজগুলো ছোট ছোট লটে ভাগ করা হয়। এ সব কাজ তাদের পছন্দের ঠিকাদারদের দেওয়ার জন্য ই-জিপিতে না গিয়ে গোপন দরপত্রের মাধ্যমে কাজ দেওয়া হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

অনেক ক্ষেত্রে অপছন্দের ঠিকাদারকে ‘নন রেসপনসিভ’ করা হয় এবং কৌশলগত হিসাবের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারকে রেসপনসিভ করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যেমন : বর্তমানে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হলেও আগেই গোপন সমঝোতার মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারকে রেট জানিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া পছন্দের ঠিকাদারের যে সব অভিজ্ঞতা রয়েছে সে সব অভিজ্ঞতার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যাতে অন্য কোনো ঠিকাদার ওই দরপত্রে অংশ নিতে না পারেন।
অস্বাভাবিক মূল্যে প্রাক্কলন তৈরি : সরকারি বাজেটের একটি অংশ ঠিকাদারের যোগসাজশে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে শিডিউল রেটের বাইরে গিয়েও অনেকক্ষেত্রে প্রাক্কলন তৈরি করা হয়।

ছোট ছোট প্যাকেজে প্রকল্প প্রণয়ন : বড় বড় প্রকল্প বিশেষ করে ৩০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। অনেক সময় অসৎ উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের দায় এড়ানোর জন্য ছোট ছোট প্যাকেজ করে প্রাক্কলন প্রণয়ন, অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। যেমনÑ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ডেলিগেটেড ওয়ার্ক হিসেবে গণপূর্ত অধিদফতরের নির্মাণাধীন ছয়টি ভবনে আসবাবপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দাফতরিক প্রাক্কলন প্রণয়ন করে ছয়টি প্যাকেজে ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।

শর্তানুসারে বাস্তবায়ন না করা : বর্তমানে গণপূর্ত অধিদফতরের অধিকাংশ ক্ষেত্রে ই-জিপি টেন্ডারিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেও তার শর্তানুসারে স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন না করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ঠিকাদারের চাপে বা একশ্রেণির প্রকৌশলী/কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়ে থাকে। ঠিকাদার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত প্রথায় পরিণত হয়েছে। কাজ পাওয়ার জন্য অনেক সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, পরামর্শক সংস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উৎকোচ প্রদান করতে হয়।

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার : গণপূর্ত অধিদফতরের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প বা নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, রড, সিমেন্ট ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যে রেশিও অনুযায়ী সিমেন্ট-বালি মেশানোর কথা, তা না করে বালির পরিমাণ বেশি মেশানো হয়। এছাড়া, যে ধরনের রড নেওয়ার কথা, তা না করে কম মেজারের রড এবং রডের ঘনত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়।

প্রকল্প তদারকিতে ধীরগতি : প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত গণপূর্ত অধিদফতরের প্রয়োজনের তুলনায় জনবল আনুপাতিক হারে কম থাকায় প্রকল্প প্রণয়ন, তদারকি, বাস্তবায়ন এ পরিবীক্ষণ কাজে ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে।

প্রয়োজনের তুলনায় কম বরাদ্দ : ভবনের মেরামত, সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য যে পরিমাণ বরাদ্দ প্রয়োজন, এর এক-তৃতীয়াংশ পাওয়া যায় না। যথাসময়ে বরাদ্দ ছাড়ের অভাবে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বিঘ্নিত হয়। এতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চাহিদামাফিক করা সম্ভব হয় না।

অনাবশ্যক ব্যয় বৃদ্ধি : প্রকল্প ছক সংশোধন করে অনাবশ্যক প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়। মূলত আর্থিক মুনাফার প্রত্যাশায় প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদার ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

নকশা চূড়ান্তে দেরি : পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে স্থাপত্য অধিদফতর প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাহিত নকশা সরবরাহ করতে সক্ষম হয় না। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে।

জরুরিভিত্তিতে কাজ না করা : কর্মকর্তাদের অবহেলা, সদিচ্ছা ও তদারকির অভাবে প্রাক্কলন তৈরি থেকে শুরু করে দরপত্র আহ্বান কার্যাদেশ প্রদান এবং কাজ শেষ প্রত্যাশী সংস্থার চাহিদামতো জরুরিভিত্তিতে করা হয় না বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

অসহযোগিতা : পূর্ত অধিদফতরের আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি দফতর, অধিদফতর বা সরকারি কোয়ার্টারের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণসহ সেবা দিতে বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসহযোগিতার অভিযোগ বাড়ছে।

বিল পরিশোধ সময়মতো না করা : অনেক সময় প্রকল্পের কাজ শেষে ঠিকাদার বিল দাখিল করলেও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা নির্বাহী প্রকৌশলী নানা অজুহাত দেখিয়ে বিল আটকিয়ে রাখেন। এক্ষেত্রে যে সব ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা হয়, সে সব ঠিকাদারের বিল আগে পরিশোধ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারদের আংশিক বিল পরিশোধ করা হয়। এক্ষেত্রেও যে সব ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা হয় তাদের বিল আংশিক পরিশোধ না করে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়।

জি কে শামীমের অধীনে বন্ধ প্রকল্পে ফের টেন্ডার : শ ম রেজাউল করিম
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হয়ে মুদ্রা পাচার আইনসহ একাধিক মামলায় কারাবন্দি যুবলীগ নেতা হিসেবে আলোচিত জি কে শামীমের ঠিকাদারি কোম্পানির অধীনে বন্ধ হওয়া প্রকল্পগুলোতে আবার দরপত্র চাওয়া হবে।

বুধবার (৯ অক্টোরব) সকালে নিজ কার্যালয়ে গণপূর্ত অধিদফতর সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিমের অনুসন্ধানে পাওয়া সুপারিশমালা হস্তান্তর শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, জি কে শামীমের অনেক প্রকল্প এখন চলমান। সে প্রকল্পের কিছু কিছু জায়গায় তারা কাজ বন্ধ করে দিয়েছে- এই অজুহাতে, তাদের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে, তাদের টাকা-পয়সা নাই, কাজ করতে পারছেন না। আমরা তাদের নোটিস দেব। যদি তারা এগিয়ে না আসেন, অসমাপ্ত কাজ পরিমাপ করে তার জন্য আবার টেন্ডার দেওয়া হবে। এর মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া কাজগুলোর মান পরীক্ষা করে যদি দেখা যায়, তা টেন্ডারের শর্ত পূরণ করছে না তাহলে সেসব সব কাজ গ্রহণ করা হবে না বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, যে কাজগুলো নিয়ে অনেক বেশি আলাপ-আলোচনা হয়েছে, প্রাসঙ্গিকভাবে বলতে পারি, এই কাজগুলো আমি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে কাজ। এটা ধারাবাহিকতা, কাজ বুঝে নেব। কোনো কাজ সঠিক না হলে কাজ আদায় করে নেব। জি কে শামীমের কোম্পানি জি কে বিল্ডার্সের সরকারের ৫৩টি ভবন নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করছে, যার মধ্যে ১৩টিতে তার কোম্পানি এককভাবে কাজ করছে, বাকিগুলো যৌথভাবে করছে।
তিনি বলেন, উনি যে পরিমাণ কাজ করছেন তার চেয়ে বেশি টাকা কোথাও নেননি। আবার ধরেন উনি পাঁচ লাখ টাকা অতিরিক্ত নিয়েছেন, উনার অনেক জায়গায় টাকা পাওনা আছে। আমরা অ্যাডজাস্ট করব।

বন্ধ কাজগুলো কবে টেন্ডার দেওয়া হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এতগুলো প্রকল্প। আশা করছি, দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত প্রকল্পে নোটিস দেব। জি কে শামীমের অনেকগুলো প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। তার কোম্পানি ‘ইন ডিউ প্রসেস পার্টিসিপেট’ করেছে। আমাদের দায়িত্ব কাজ যথাযথভাবে তিনি করছেন কিনা সেটা দেখা। তিনি যদি অতি গোপনে বা আমাদের ‘নলেজের’ বাইরে কাউকে উৎকোচ দিয়ে থাকেন, সেটা কিন্তু আমার ধরার মতো অবস্থা নেই।

এ ধরনের কোনো অভিযোগ এলে তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সে বিষয়গুলো অনেকটা যত্নশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। এখন কিছু কিছু ব্যাপারে যখন দুদক একটা ইনকোয়ারিতে আছে, আমরা আরেকটা ইনকোয়ারিতে যাব না। এ কারণে যাব না আমি নিজে আইনজীবী, আমি বুঝি ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ দুটি জায়গায় আসা যাবে না।

মন্ত্রী বলেন, একটা তদন্ত রিপোর্ট আমার কর্মকর্তা আমাকে দিল। যেটা দুদকে রিপোর্টের সঙ্গে মিশছে না। এই ফাঁকে কিন্তু যিনি অভিযুক্ত তিনি পার পেয়ে যাবেন, দুটি রিপোর্টের ফাঁকের সুযোগ নিয়ে। কাজেই ইনভেস্টিগেশন করার প্রপার অথরিটি কিন্তু পুলিশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন। ক্রিমিনাল অফেন্সের বিষয়ে তারা ইনভেস্টিগেশন করছে। আমরা সহায়তা করব আর ডিপার্টমেন্টের প্রসেসে যেগুলো নেওয়ার মতো ব্যবস্থা আছে, সেটা আমরা গ্রহণ করছি।