অদক্ষ শ্রমিকই সমস্যা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৯ কার্তিক ১৪২৬

বৈদেশিক মুদ্রায় অপূর্ণ প্রত্যাশা

অদক্ষ শ্রমিকই সমস্যা

জাফর আহমদ ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৩, ২০১৯

print
অদক্ষ শ্রমিকই সমস্যা

প্রতি বছর দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা (রেমিট্যান্স) আসে। এই অর্থ বিদেশ থেকে যারা পাঠান তারা সবাই অদক্ষ শ্রমিক। ফলে এসব শ্রমিক সংখ্যায় বেশি হলেও অদক্ষ হওয়ার কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা আসছে না। সরকারিভাবে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর সময় দক্ষ করে পাঠানোর উদ্যোগ নিলেও নানা কারণে তা সফল হচ্ছে না। এর বিপরীতে বিদেশে বিভিন্ন মিশন ও বিদেশি বিভিন্ন সংস্থায় সরকারি লোক যাওয়ার ফলে তারা সংখ্যায় কম হলেও পাঠানো অর্থের পরিমাণ বেশি হচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদেশে বিভিন্ন মিশন ও সংস্থা থেকে করা আয়ের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮৮৪ মিলিয়ন ডলার। যা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি মোট বৈদেশিক আয়ের এক-পঞ্চমাংশের সমান।

গত বছর সেবা রপ্তানি করে মোট আয় হয়েছিল ৬ দশমিক ৩৩৮ বিলিয়ন ডলার। অথচ যাদের সেবার দামে এ আয় আসছে সেই সব মানুষের সংখ্যা ১০ হাজারের নিচে। বা যান্ত্রিক যে সহায়তা উপযোগিতা দেওয়া হচ্ছে তা খুবই কম। বিদেশ থেকে ১৫ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল করছে সেই শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় এক কোটি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই কোটি প্রবাসী শ্রমিক দেশে অর্থ পাঠিয়েছিল ১৬ দশমিক ৪১৯ বিলিয়ন ডলার। তার আগের বছর পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৫ বিলিয়ন ডলার।

প্রধানতম হলো ডিপ্লোমেটিক মিশন, আন্তর্জাতিক সামরিক-বেসামরিক মিশন ও সংস্থায় সরকারি জনবলের সেবার আয়। এ ছাড়াও রয়েছে বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয় করা পণ্য প্রক্রিয়ার মার্চেন্ডাইজিং সেবা, বিদেশিদের ভ্রমণে সেবা, টেলি-কমিউনিকেশন, ট্রান্সপোর্ট সেবা, ইন্স্যুরেন্স সেবা, তথ্য সেবা, ব্যক্তিগত, সাংস্কৃতিক, গবেষণাসহ ১২ ধরনের সেবা রয়েছে।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৩৩৮ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এ বছর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫০০ বিলিয়ন ডলার। এরই মধ্যে অর্জিত হয়েছে ৫৩২ মিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ হয়নি। রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের বাকি মাসগুলোতে সেবা রপ্তানির লক্ষ্য পূরণ হবে।

বাংলাদেশের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না বলে মনে করেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পিআরআই-র নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, শিপিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো কাজ হচ্ছে না। অথচ এ বিভাগটির যথেষ্ট করণীয় ছিল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও আমাদের যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল। এগুলো কাজে লাগানো যায়নি। আমরা শুধু সেবা রপ্তানিই করছি না, বড় অঙ্কের সেবা আমরা আমদানিও করছি। ফলে সেবা বাণিজ্যেও আমরা ঘাটতিতে আছি। এই ঘাটতি পূরণ করা গেলে বাংলাদেশের সেবা রপ্তানি জনশক্তি রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আয়কে ছাড়িয়ে যাবে। এজন্য সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সঠিক পথনকশা করতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে সেবা রপ্তানিতে যে আয় হচ্ছে তার চেয়ে বেশি দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প যেভাবে বড় হচ্ছে, রপ্তানি বাড়ছে তত সেবা রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পে মার্চেন্ডাইজিং ও পোশাক রপ্তানিতে জাহাজভাড়া বাবদ বড় ধরনের আয় হতে পারে। কিন্তু ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের কর্মী বাংলাদেশের মার্চেন্ডাইজিংয়ের বড় একটি দখল করে আছে। আর পণ্য রপ্তানিতে বাজার দখল করে আছে সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশ।

এ ব্যাপারে তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম একজন শীর্ষ উদ্যোক্তা খোলা কাগজকে বলেন, সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি মেটাতে যা করণীয় তা করবে সরকার। এ কাজ বেসরকারি উদ্যোক্তাদের নয়, বেসরকারি উদ্যোক্তারা ব্যবসা করবে। তারপরও আমরা দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করছি। আর তৈরি পোশাক শিল্পে বিদেশি জনশক্তি কিছু থাকলেও তা কৌশলগত কারণে রেখেছি। এরপরও দিন দিন কমে আসছে।