ইমেজ সংকটে তৈরি পোশাক শিল্প

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

ইমেজ সংকটে তৈরি পোশাক শিল্প

অ্যাকোর্ডের অর্জন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা বিজিএমইএর

জাফর আহমদ ১০:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯

print
ইমেজ সংকটে তৈরি পোশাক শিল্প

আগামী বছর মে মাসে বাংলাদেশ থেকে চলে যাবে অ্যাকোর্ড। এর আগে সংগঠনটি নিজেদের সব কাজ (পরিদর্শন, প্রতিকার, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তা-অভিযোগ প্রক্রিয়া) হস্তান্তর করতে চায়। এ বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয় কাজও শুরু করেছে। কিন্তু এরই মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) অ্যাকোর্ডের কাজের ধারাবাহিকতা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ‘আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল’ বা (আরএসসি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। বিজিএমইএর এ ধরনের কর্মকা-কে তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন করে ইমেজ সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে বলে করছে শ্রমিক নেতারা।

রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ নিরাপদ করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতারা গঠন করে অ্যাকোর্ড। আর উত্তর আমেরিকার ক্রেতারা গঠন করে অ্যালায়েন্স। সংগঠন দুটির কয়েক বছরের চেষ্টার ফলে তৈরি পোশাক শিল্পের হৃত ইমেজ অনেকটা উদ্ধার হয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশের আদালতের নির্দেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ থেকে কর্মকা- গুটিয়ে নেওয়ার জন্য চুক্তি করে অ্যাকোর্ড। সে অনুযায়ী আগামী বছরের মাঝামাঝিকে সামনে রেখে শ্রম মন্ত্রণালয় আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি (আরএসএস) গঠনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বিজিএমইএ একটি শ্রমিক সংগঠনকে সঙ্গে করে অ্যাকোর্ডের কর্মকাণ্ড হস্তান্তর করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিজিএমইএর বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকের পক্ষগুলো ২০২০ সালের মে মাসের মধ্যে অ্যাকোর্ড এবং এর সব কার্যবলীর (পরিদর্শন, প্রতিকার, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তা-অভিযোগ প্রক্রিয়া) একটি সাবলীল হস্তান্তর নিশ্চিত করতে বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। আরএসসি একটি অভূতপূর্ব জাতীয় উদ্যোগ যা দেশীয় শিল্প, ব্র্যান্ড এবং ট্রেড ইউনিয়নকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্সের মানদণ্ড নিশ্চিত করবে, যা কিনা অদ্যাবধি অর্জিত সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। পর্যায়ক্রমে এই আরএসসি শিল্প সম্পর্ক কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত বিষয়গুলোকেও নিজেদের কার্যপরিধির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করবে।

বিজিএমইএর এ ধরনের উদ্যোগকে অযৌক্তিক ও অপরিপক্ব বলে মনে করেন, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুকুর মাহমুদ। খোলা কাগজকে তিনি বলেন, সরকার যখন দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অর্জিত সাফল্যকে এগিয়ে নিতে চায়, অ্যাকোর্ডের কর্মপদ্ধতি টেকওভার করতে চায়, তখন বিজিএমইএ বিষয়টিকে বিতর্কিত করার কাজে হাত দিয়েছে। এ ধরনের কাজের জন্য সরকার, শ্রমিক, বিজিএমইএ ও বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন। কিন্তু সরকার, শ্রমিককে বাদ দিয়ে বিজিএমইএ একতরফাভাবে অ্যাকোর্ডের অর্জন ও কর্মকাণ্ডকে হস্তগত করতে চায়। এর ফলে তৈরি পোশাক শিল্প আবার ইমেজ সংকটের মুখোমুখি হবে।

এ বিষয়ে গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আক্তার খোলা কাগজকে বলেন, বিজিএমইএর এ ধরনের উদ্যোগকে কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারি না। অ্যাকোর্ডের কার্যাবলী হস্তান্তর করে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তা বিজিএমইএর নেতৃত্বে কেন? সরকার, ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, বিজিএমইএ ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ বলে পরিচিত প্রতিষ্ঠান বা মানুষের সমন্বয়ে সেটা করতে হবে।

বাংলাদেশ পোশাকশিল্প শ্রমিক ফেডারশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান বলেন, অ্যাকোর্ড একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। এ উদ্যোগের ফলেই দেশে তৈরি পোশাক শিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। অ্যাকোর্ড নিয়ে আমাদের মধ্যেও মতবিরোধ আছে। তারপরও অ্যাকোর্ডের কাজের কারণে আমাদের তৈরি পোশাক নতুন করে ব্র্যান্ডিং হয়েছে। এর ফলে পোশাক শিল্পে একটি নিরাপত্তা চলে এসেছে। কিন্তু এই আন্তর্জাতিক বহুজাতিক উদ্যোগ অ্যাকোর্ডকে স্থানীয় উদ্যোক্তারা ‘টেকওভার’ করতে চাইছে। তাদের এটা টেকওভার করার ক্যাপাসিটি কতটা আছে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। বিজিএমইএ এক ধরনের কাড়াকাড়ি করছে। আমরা মনে করি এটা ঠিক হচ্ছে না।

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক ও শিল্পের স্বার্থে যাই হোক তা স্বচ্ছ ও জবাবদিহির ওপর জোর দিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র কুমার। তিনি বলেন, সবার আগে তৈরি পোশাক শিল্পে ট্রেড ইউনিয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তৈরি পোশাক শিল্পে ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকর না থাকার কারণে অ্যাকোর্ড বা অ্যালায়েন্সের প্রয়োজন হয়েছিল। তারা এ খাতে কিছু উন্নতিও করেছে। তারা যা করেছে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে। তৈরি পোশাক শিল্প ও শ্রমিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকারি যে সব প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলো গার্মেন্ট মালিকদের এজেন্ট হয়ে কাজ করছে। অ্যাকোর্ড যেখানে এবং যেভাবেই হস্তান্তর হোক সবার আগে ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকর করতে হবে।