ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়াতে হবে

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়াতে হবে

বিআইবিএমের সেমিনারে বক্তারা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯

print
ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়াতে হবে

দেশের প্রত্যেক ব্যাংক তাদের ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনের জন্য সব ক্ষেত্রে লক্ষ্যে পৌঁছেছে। এর ফলে বিদ্যমান পণ্য এবং মার্কেট শেয়ার ভাগাভাগি হয়েছে। এক্ষেত্রে আরও এগুতে প্রযুক্তিনির্ভর (অটোমেশন) নতুন সেবা ব্যাংকিং খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘কম্পিটিশন, কনসেনট্রেশন অ্যান্ড ব্যাংকিং স্টাবিলিটি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস.এম. মনিরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএম-এর পরিচালক (গবেষণা) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী। বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক মহা. নাজিমুদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা, সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা এস এ চৌধূরী, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক সির্বাহী পরিচালক মো. ইয়াছিন আলি, ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী প্রমুখ।

কমিটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ব্যাংকের সংখ্যা, অপারেশন এরিয়া, একসেস টু ক্রেডিট, ব্যয়, আর্থিক সেবা, ইনোভেশন ইত্যাদি বিবেচনায় বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাত অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এ প্রতিযোগিতা জাতীয় অর্থনীতি, সমাজের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক হলেও ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে আর্থিক ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য বিভিন্ন আইন প্রণয়ন এবং সংশোধন করেছে সংস্থাটি। মূলত ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক মহা. নাজিমুদ্দিন বলেন, গ্রাহকদের দিক বিবেচনায় ব্যাংকারদের সেবা প্রদান করতে হবে।

তিনি বলেন, বিআইবিএম-এর গবেষণা নীতি-নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা তার বক্তব্যে ব্যাংকিং খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা আবশ্যক বলে উল্লেখ করেন।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকগুলোর শাখা সম্প্রসারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলকে বেছে নিতে হবে। সেই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে নীতিমালা আছে তা পরিপালন করলে অনেকাংশে সুফল পাওয়া যাবে। ব্যাংকগুলোকে এমআইএস শক্তিশালী করতে হবে। যাতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতরা সব তথ্য সহজে পায়। শ্রেণিকৃত ঋণ কমানোর জন্য ব্যাংকের আইসিসিকে শক্তিশালী করতে হবে এবং বোর্ড ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট সবাইকে আইসিসির আমলে নিতে হবে।

বিআইবিএম-এর সাবেক সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলি বলেন, প্রতিযোগিতার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হবে। সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে। সরকারি ব্যাংকের মতো বেসরকারি ব্যাংকেও গ্রাহকের আমানতের নিশ্চয়তা দিতে হবে। ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকতে হবে। এতে গ্রাহকরা উপকৃত হবে। বেসরকারি খাত ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি গ্রামে ঋণ আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ চৌধূরী বলেন, ব্যাংকিং খাতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও ইনোভেশন কম। পুরনো পণ্য নির্ভর করেই চলছে ব্যাংকিং খাত। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওসমান আলী বলেন, ট্রেড ফাইন্যান্সিংয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে রাজশাহী ও খুলনায় নজর দিতে হবে। এর বাইরে এসএমই খাতেও ঋণ বাড়াতে হবে।