৮ ব্যাংক শুনছে না কথা

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

কৃষিঋণ বিতরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তাগাদা

৮ ব্যাংক শুনছে না কথা

জাফর আহমদ ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
৮ ব্যাংক শুনছে না কথা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে ২ শতাংশ হারে কৃষিঋণ বিতরণ করতে হবে। সুদ হার রাখতে হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। যে সব ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে নিজস্ব শাখা নেই তারা অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে এ ঋণ বিতরণ করবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা না মানলে ওই সব ব্যাংককে জরিমানা দিতে হবে। এ কঠোর নির্দেশনাও প্রায় আটটি বাণিজ্যিক ব্যাংক কয়েক বছর ধরে কৃষিঋণ বিতরণ করছে না।

সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা ও পল্লী অঞ্চলে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলে দারিদ্র্য কমিয়ে আনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সকল ব্যাংককে কৃষিঋণ বিতরণে নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষিঋণ বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা যে সব ব্যাংক মানছে না, সে সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে নিয়মিত জরিমানাও করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ সব ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা অনার্জিত টাকার সমপরিমাণ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কেটে নিয়েছে। কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রতি বারবার তাগাদা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কিছু ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আটটি ব্যাংকের কৃষিঋণের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মধুমতি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এসবিএ ব্যাংক তিন বছরের অধিক সময় ধরে কৃষিঋণ বিতরণ করছে না। দুই বছর ধরে কৃষিঋণ বিতরণ করছে না এবি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। এর মধ্যে মধুমতি ব্যাংক ২০১৬-১৭ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার ২২ শতাংশ বিতরণ করছে; ইউনিয়ন ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার ৩২ শতাংশ এবং একই বছরে এসবিএ ব্যাংক বিতরণ করেছে ৭২ শতাংশ।

এ ছাড়া গত ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ দুই অর্থবছর ধরে লক্ষ্যপূরণ না করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি ব্যাংক বিতরণের হার যথাক্রমে ৮১ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও ৫৪ দশমিক ৩০ শতাংশ; ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক বিতরণ করেছে ৫৪ দশমিক ৭৮ ও ৯৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ; মেঘনা ব্যাংক বিতরণ করেছে ৫৭ দশমিক ৪৯ ও ৭৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ; মধুমতি ব্যাংক বিতরণ করেছে ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ ও শূন্য শতাংশ; এনআরি গ্লোবাল ব্যাংক বিতরণ করেছে ৪১ দশমিক ১৩ ও ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ; এসবিএ ব্যাংক বিতরণ করেছে ৫০ দশমিক ২৪ ও ৩৭ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং ইউনিয়ন ব্যাংক বিতরণ করেছে ২৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ ও ৩৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।