জাল দলিলে বিডিবিএলের ১৭৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

জাল দলিলে বিডিবিএলের ১৭৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
জাল দলিলে বিডিবিএলের ১৭৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) থেকে ১৭৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান মামলাটি করেন।

সংস্থার উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যাংকটির প্রধান শাখার দুই কর্মকর্তা জাল দলিল এবং প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অস্তিত্ব আছে কিনা তা যাচাই না করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। জাল কাগজপত্র জেনেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোস্তফা গ্রুপকে সুবিধা দিয়েছেন। 

আর্থিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে মোট ১৭৪ কোটি টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেছেন। এই অভিযোগে দুই ব্যাংক কর্মকর্তা ও মোস্তফা গ্রুপের ৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন- এম এম ভেজিটেবল ওয়েল প্রোডাক্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. হেফাজেতুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন, পরিচালক কামাল উদ্দিন, কফিল উদ্দিন, রফিক উদ্দিন, শফিক উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, লুসিডা ট্রেডিংয়ের মালিক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, মেসার্স গ্লোব ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. মাহবুবুল আলম, বিডিবিএল প্রধান শাখার সাবেক জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ নুরুর রহমান কাদরী ও সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) দীনেশ চন্দ্র সাহা।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এম এম ভেজিটেবল ওয়েল প্রোডাক্টস লিমিটেড চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে অবস্থিত। ওই প্রকল্পটি সয়াবিন ও পাম অয়েল রিফাইনারি প্ল্যান্ট। এর মালিকানা দেশের স্বনামধন্য মোস্তফা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের। ভুয়া ঋণপত্রের মাধ্যমে ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান গ্লোব ইন্টারন্যাশনাল ও লুসিডা ট্রেডিংকে দুটি ঋণপত্র দেয়। এই দুটি ঋণপত্রের মূল্যমান যথাক্রমে ৫৪ কোটি ৩১ লাখ ৮৮ হাজার ১০০ টাকা এবং ২৫ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার ৩২০ টাকা।

গ্লোব ও লুসিডা ট্রেডিং এম এম ভেজিটেবল অয়েল প্রোডাক্টসকে ঋণপত্রের শর্ত অনুসারে মালামাল দিয়েছে মর্মে বিডিবিএলকে জানায়। বিডিবিএলের কর্মকর্তারা ওই মালামাল ঠিকমতো সরবরাহ করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত না হয়েই সেটার টাকা এম এম ভেজিটেবল অয়েল কোম্পানিকে হস্তান্তর করে। ওই টাকা ট্রাস্ট ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকে স্থানান্তরের মাধ্যমে তুলে নিয়ে করে আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠান মালিকরা।

দুদক বলছে, ব্যাংক থেকে নেওয়া মোট ৭৯ কোটি ৫৫ লাখ ৭ হাজার ৪২০ টাকা সুদসহ ১৭৪ কোটি টাকা হয়েছে। তাই ১৭৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি হয়েছে।