প্রথম মাসেই বিক্রি কমে অর্ধেক

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

সঞ্চয়পত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা

প্রথম মাসেই বিক্রি কমে অর্ধেক

জাফর আহমদ ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৯

print
প্রথম মাসেই বিক্রি কমে অর্ধেক

পেনশন গ্রহণকারীদের সামাজিক নিরাপত্তা সৃষ্টি, গৃহবধূদের সঞ্চয়মুখী ও সুরক্ষা দিতে এবং প্রবাসীদের দেশে টাকা পাঠানোতে উৎসাহ সৃষ্টিতে সঞ্চয়পত্রে বেশি সুদ আসছে। এ অর্থ সরকারের উন্নয়ন কাজে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু এ সুযোগে ঘুষখোর ও দুর্নীতির পথে অর্জিত টাকার মালিকরাও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ শুরু করে।

এতে একদিকে সরকারের ঘরে উচ্চ হারের ঋণ ঢুকে পড়ছিল, অন্যদিকে ব্যাংকে আমানত কমে যাচ্ছিল। এর ফলে, ব্যাংক ঋণে সুদহার নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছিল না। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া সুযোগ দুর্নীতিবাজ ও কালো টাকার মালিকের ঘরে চলে যাচ্ছিল। সঞ্চয়পত্রে অর্থের স্রোত রোধে সরকার বিভিন্ন রকম নিরাপত্তা কর্মসূচি হাতে নেয়। আর ফলে কমে গেছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি অর্থেকে নেমে গেছে। বিষয়টিকে একটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. ইয়াসিন আলী।

তিনি খোলা কাগজকে বলেন, সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও সুদ কমিয়ে আনতে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু সরকার সুদ না কমিয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছিল। এতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে এসেছে। এর ফলে সঞ্চয়পত্রে যাদের সহায়তা প্রয়োজন নেই তারা আটকে পড়েছে, কালো টাকা ও বিত্তশালীরা আটকে পড়েছে। সঞ্চয়পত্রে যাদের সহায়তা প্রয়োজন তাদের সহায়তা নির্বিগ্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই সাবেক ব্যাংকার।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে অর্ধেকে নেমেছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী জুলাই (২০১৯) মাসে ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৫ হাজার ৩৬ কোটি টাকার। বাজেট ঘাটতি পূরণে প্রতি বছরই দুভাবে ঋণ নিয়ে থাকে সরকার।

এর একটি হচ্ছে বৈদেশিক সহায়তা, অপরটি অভ্যন্তরীণ উৎস। অভ্যন্তরীণ উৎস হিসেবে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ঋণ নেওয়া হয়। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ৫ হাজার ৩৬ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। যা সদ্য সমাপ্ত জুলাইয়ের তুলনায় ২ হাজর ৮৭৬ কোটি টাকা বেশি।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। ১ লাখ টাকার বেশি মূল্যমানের সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সীমার অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র কেনা ঠেকাতে একটি সেন্ট্রাল ডাটাবেজ করা হয়েছে। এর আগে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১০ মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহার গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছিল। এসব কারণেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০১৫ সালের ২৩ মের পর থেকে এই হার কার্যকর আছে। এর আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ছিল ১৩ শতাংশেরও বেশি।