এমডিসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

সিটি ব্যাংকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

এমডিসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

জাফর আহমদ ১০:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯

print
এমডিসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেছেন একই ব্যাংকের সাবেক এক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার। এ ঘটনায় তিন আসামি এমডি মাসরুর আরেফিন, ডিএমডি আবদুল ওয়াদুদ ও বোর্ড সেক্রেটারি কাফি খান উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন। ভুক্তভোগী নারীর বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন সিটি ব্যাংকের এমডি।

জানা যায়, রাজধানীর গুলশান থানায় সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, ডিএমডি ও হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ ও বোর্ড সেক্রেটারি কাফি খানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করেন ওই নারী কর্মকর্তা। মামলাটি করা হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪০৬/৫০৬ ধারায়।

এজহারে শ্লীলতাহানি ও শ্লীলতাহানিতে সহায়তা প্রদান করা এবং অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকি প্রদর্শনের অপরাধের কথা বলা আছে। এজাহারে আরও বলা হয়, ব্যাংকে যোগদান করার পরপরই মাসরুর আরেফিনের নিয়মিত ইভ টিজিংয়ের শিকার হতেন ওই নারী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় এমডির এসব আচরণ সহ্য করেই তাকে কাজ করতে হতো। ২০১১ সালে অপর আসামি হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ গাড়িতে লিফট দেয়ার নাম করে তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে বসেন। লিফটের ভেতরে ও সিঁড়িতে অফিস চলাকালীন সময়ে তার হয়রানির শিকার হতে হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ওই নারী কর্মকর্তা গণমাধ্যমে জানান, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্য দুই আসামি তাকে অব্যাহতভাবে ইভ টিজিং করতেন। তাদের কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় আমাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করেন। এমনকি শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন তার কাছে ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুতির চিঠি পাঠানো হয়। বাদী আরও জানান, তার সঙ্গে ওই তিন কর্মকর্তার কুরুচিপূর্ণ আচরণের বিষয়টি অনেক আগে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে জানানোর পরও কোনো সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়ে তাই আইনের আশ্রয় নিতে হয়েছে তাকে।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি স্বীকার করেন গুলশান থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) এস এম কামরুজ্জামান। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, মামলার পর বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। তদন্তাধীন বিষয়ে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর এ ব্যাপারে বলা যাবে।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা মাসরুর আরেফিন। খোলা কাগজকে তিনি বলেন, ‘এ মামলা সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে এতদিন পর কেন মামলা?’ ওই নারী কর্মকর্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। সিটি ব্যাংকে চাকরির শর্ত হচ্ছে, এখানে চাকরিকালীন অবস্থায় অন্য কোনো পেশায় জড়ানো যাবে না। কিন্তু তিনি সিটি ব্যাংকে চাকরির পাশাপাশি হোটেল, বিউটি পার্লার ও স্কুল পরিচালনা করেছেন। সিটি ব্যাংক থেকে ৮৬ লাখ টাকা হাউস লোনও নিয়েছেন। ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ সব বিষয়ে ব্যাংকের শৃঙ্খলা ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হরে যৌন হয়রানির মামলা করা হয়।

মাসরুর আরেফিনের অভিযোগ, অধিকাংশ সময় ওই নারী কর্মকর্তা নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। অফিসের গাড়ি ব্যবহার করে রাতভর বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতেন। এ ব্যাপারে ড্রাইভারের স্বীকারোক্তিসহ ফাইল জমা আছে। এসব অভিযোগের কারণে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিই আমি। এরপরই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে যৌন হয়রানির মামলা করেছেন।

মাসরুর আরেফিন জানান, যৌন হয়রানির মামলা থেকে সোমবারই আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। পাশাপাশি ওই নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি মামলাও করা হয়েছে।

এ ধরনের কোনো মামলার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান। সিটি ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারি কাফি খান বলেন, বিষয়টি বিচারাধীন। নিশ্চয়ই আমরা সুবিচার পাব। এর বাইরে কিছু বলতে চাইছি না। এদিকে অস্বীকার করেন সিটি ব্যাংকের বর্তমান ডিএমডি মো. আবদুল ওয়াদুদ। তিনি বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি মিথ্যা। যেসব জায়গায় যৌন হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে সে জায়গাগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায়। বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় আমরা কিছু বলতে চাই না।

এদিকে সিটি ব্যাংকের অন্য একটি সূত্র জানায়, যে কারণেই হোক ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনার পরিচালক মাসরুর আরেফিনের সঙ্গে ওই নারী কর্মকর্তার বৈপরীত্য ছিল। এ ব্যাপারে মাসরুর আরেফিনও জানান, তার অধীনের চাকরি করার পরও ওই কর্মকর্তা তাকে ডিঙ্গিয়ে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চলে যেতেন।