বাড়ছে বহুমুখী ব্যবহার

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

প্রণোদনার ১০ টাকার অ্যাকাউন্ট

বাড়ছে বহুমুখী ব্যবহার

জাফর আহমদ ১০:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

print
বাড়ছে বহুমুখী ব্যবহার

সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে ১০ টাকা, ৫০ টাকা ও ১০০ টাকার অ্যাকাউন্ট সচল হয়ে উঠেছে। এক সময় যারা মহাজনি ঋণ, প্রভাবশালীদের সুদি জাঁতাকল ও এনজিও চক্রে পিষ্ট হতো তারা এখন নিজেরাই ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয় করছেন। ১০ টাকার অ্যাকাউন্ট এখন আর শুধুই প্রণোদনা নেওয়ার মাধ্যম নয়।

এ সব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরকারি প্রণোদনা ও সামাজিক নিরাপত্তার সহায়তা নেওয়া ছাড়াও তারা বহুমুখী কাজে ব্যবহার করছেন। তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রের। ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার অ্যাকাউন্ট খোলার পাশাপাশি এ সব অ্যাকাউন্টকে সচল রাখার জন্য সরকার উদ্যোগ নেয়। অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার এ সব অ্যাকাউন্টেই ক্ষুদ্র আমানত জমা, ঋণ গ্রহণ ও প্রবাসী পরিজনদের পাঠানো রেমিট্যান্স গ্রহণের ব্যবস্থা করছে। এর ফলে প্রণোদনা দেওয়ার অ্যাকাউন্ট বহুবিধ কাজে ব্যবহার শুরু হয়।

যে প্রান্তিক মানুষ আগে ৫০০ বা ১ হাজার টাকা জমা করে ঘরের বেড়া বা টিনের চালে গুঁজে রাখতেন তারাই এখন সে টাকা রাখছেন ১০ টাকার এসব অ্যাকাউন্টে। প্রবাসী পরিজনের টাকা গ্রহণের জন্য যারা অন্যের ওপর নির্ভর করতেন, পাঠানো টাকার পুরোটাই হয়তো খোয়া যেত বা দেরিতে পেতেন।

বর্তমানে এসব মানুষ প্রণোদনার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই গ্রহণ ও উত্তোলন করছেন। এর ফলে অর্থনীতিতে এ সব প্রান্তিক মানুষের অবদান আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিংয়ের মূল ধারাতে নিয়ে আসার জন্য। এখন এ সব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বেশি সংখ্যক লেনদেন হওয়ার খবর খুবই ইতিবাচক। তবে প্রান্তিক মানুষের এ সব অ্যাকাউন্ট কার্যকর রাখা নির্ভর করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ কতটা জোরদার করছে এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কীভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে তার ওপর বলে মনে করেন বিআইবিএমের সাবেক নির্বাহী পরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধূরী।

খোলা কাগজকে তিনি বলেন, এ ধরনের অ্যাকাউন্টধারী মূল ব্যাংকিংয়ে এলে অর্থনীতিতেও তাদের অবদান বৃদ্ধি পাবে। তবে এগুলো সচল রাখা খুবই চ্যালেঞ্জ।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রণোদনা দেওয়ার জন্য খোলা এ সব হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯২ লাখ ১৭ হাজার ৮৭টি। এ সব অ্যাকাউন্টে সঞ্চয় হয়েছে ১ হাজার ৯০৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ৫০ লাখ ২০ হাজার ৬২৩টি অ্যাকাউন্টে সঞ্চয় করেছে ৯০১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আর ৩৬ হাজার ৩৪৪টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে প্রবাসীদের কাছে থেকে রেমিট্যান্স গ্রহণের জন্য। তাদের সংগৃহীত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৫৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ সব অ্যাকাউন্ট খোলার ফলে পথশিশু ও ভবঘুরে মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা জমা রাখছেন। এনজিওর কাছে থেকে প্রাপ্ত অর্থ এবং বিভিন্নভাবে অর্জিত টাকা আগে কাছে রাখার ফলে হারিয়ে যেতো। এসব শিশু এখন ব্যাাংকে টাকা রাখছে।

১০, ৫০ ও ১০০ টাকার এসব অ্যাকাউন্টকে সচল রাখার জন্য সব চেয়ে বড় কাজটি হয়েছে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের ব্যবস্থা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সব অ্যাকাউন্টধারী ক্ষুদ্র, প্রান্তিক, ভূমিহীন কৃষকসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পেশাজীবীদের আয় উৎসারি কর্মকাণ্ডে বিস্তৃত করার সুযোগ করে দিয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার একটি আবর্তনশীল তহবিল গঠন করেছে। এ অর্থ বিতরণ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে এনজিওর মাধ্যমে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৭২ হাজার ২০৫ গ্রাহককে মোট ৫২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বিতরণ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, কৃষককে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য ১০ টাকার অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও এখন নানামুখী ব্যবহার শুরু হয়েছে। সব অ্যাকাউন্টকে কাজে সচল রাখার জন্য উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু এখনো পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। এখনো অনেক মানুষ অ্যাকাউন্ট থাকার পরও ব্যাংকমুখী হতে ভয় পায়। এ সব মানুষকে ব্যাংকমুখী করা গেলে একদিকে এ সব মানুষ সঞ্চয়মুখী হবে। পাশাপাশি উৎপাদনে প্রান্তিক মানুষের সঞ্চয়ও ভূমিকা রাখবে। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ ব্যাপারে আরও জোরদার ভূমিকা পালন করতে হবে।