পিয়াজসহ মসলার দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পিয়াজসহ মসলার দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা

রসুন-আদার দাম অস্বাভাবিক

জাফর আহমদ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৬, ২০১৯

print
পিয়াজসহ মসলার দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা রসুন আদার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এসব পণ্যের সরবরাহ ও আমদানি মূল্য কম থাকার পরও বাড়তি মুনাফা করার জন্য দাম বাড়িয়েছেন। কোরবানির ঈদে ব্যবহৃত অপর মসলা জাতীয় পণ্য পিয়াজের দাম বাড়ানোর জন্য পাঁয়তারা করছেন। ভোক্তারা মনে করছেন, এসব পণ্যের বাজার পর্যবেক্ষণ না থাকার কারণে এক দফায় দাম বেড়েছে। এখনি বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার না করা গেলে পিয়াজসহ অন্য মসলারও দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।

এক মাস আগে দেশি রসুনের প্রতি কেজির দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আমদানি করা বিদেশি বড় পিয়াজের দাম ছিল ১১০ থেকে বাজার ও ধরনভেদে ১২০ টাকা পর্যন্ত। এক মাসের ব্যবধানে রসুন ও পিয়াজের প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় উঠেছে। দেশি রসুনের দামও বেড়েছে ৩০ টাকা করে। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে পিয়াজের দাম ২৫ থেকে ধরনভেদে ৩০ টাকা। চাহিদা বেড়ে যাওয়া ও বৃষ্টির মধ্যে পরিবহনের সময় পিয়াজ পচে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে যে কোনো সময় দাম বাড়ানো হতে পারে। রাজধানীর পাইকারি বিক্রেতারা এমন আভাস দিয়েছেন। বাড়তে পারে অন্যান্য মসলার দামও। এ অবস্থায় বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে ক্রেতারা।

কারওয়ান বাজারের আসগর মৃধা জানান, কোরবানি ঈদ এলে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। দোকানদাররা আগে থেকে এসব পণ্য সংগ্রহ শুরু করলে বাজারে চাহিদা বেড়ে যায়, দাম বৃদ্ধির এটি অন্যতম একটি কারণ। এ ছাড়া পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়া, রাস্তায় রাস্তায় চাঁদাবাজি ও ঈদের বাড়তি খরচ মেটানোর জন্য এসব পণ্যের দাম বাড়ে।

এ বছর দেশে পর্যাপ্ত পিয়াজ উৎপন্ন হয়েছে। আমদানি মূল্যও কম। সর্বশেষ মে মাসের তথ্যে দেখা যায় এক মাসে দেশে পিয়াজ আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ১৭৬ মেট্রিক টন। প্রতি কেজি পিয়াজের আমদানি মূল্য ১৫ টাকা ২০ পয়সা। এক কেজি পিয়াজের আমদানি মূল্য ১৫ টাকা। মে মাসে রসুন আমদানি হয়েছে ৮ হাজার ৭৩৯ মেটিক টন। প্রতি কেজি রসুনের আমদানি মূল্য ৪৫ টাকার নিচে। আর প্রতি কেজি আদার আমদানি মূল্য ৫০ টাকার মতো। কিন্তু এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে তিনগুণের বেশি দামে। কৃষিপণ্য হিসাবে এসব পণ্যের কোনো শুল্ক মওকুফ। তারপরও কেন এত বেশি দামে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে এ প্রশ্নের উত্তর নেই পাইকারদের কাছে।

ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার মানসিকতার কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। এসব পণ্য আমদানি করে গোটা কয়েক প্রতিষ্ঠান। তারা নানাভাবেই প্রভাবশালী। সরকার একদিকে ব্যবস্থা নিলে অন্যদিকে আরেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়ায়। মুক্ত বাজার অর্থনীতির কথা বলে তারা যা ইচ্ছা তাই করে। এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের শিথিলতা। সরকার বাজেট নিয়ে ব্যস্ত থাকার মধ্যে মুনাফালোভী, সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান খোলা কাগজকে বলেন, ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার মানসিকতার কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। তাদের ক্ষেত্রে মুক্তবাজার অর্থনীতি আর গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বন্দিদশার অবস্থা। ব্যবসায়ীরা যেভাবে খাওয়াচ্ছে ভোক্তারা বাধ্য হয়ে সেভাবে খাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো ভোক্তাদের সংগঠিত করে প্রতিকারে নামা।

ব্যবসায়ীরা যখন পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তারা তখন সংগঠিত হয়ে পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে দেবে, কেন দাম বাড়ছে তার কারণ জানতে চাইবে। এটা করতে পারলে পণ্যের দাম কমবে, পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারও কঠোর হবে। জনগণ সচেতন না হলে সরকারও বাজার নিয়ন্ত্রণে নেমে কোনো সুবিধা করতে পারবে না।