বাড়ছে প্রভিশন ঘাটতিও

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

খেলাপি ১,১০,৮৭৩ কোটি টাকা

বাড়ছে প্রভিশন ঘাটতিও

জাফর আহমদ ১০:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৯

print
বাড়ছে প্রভিশন ঘাটতিও

ব্যাংকিং খাতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতি। যে হারে খেলাপি ঋণ বাড়ছে একই হারে প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকগুলো। গত তিন মাসের ব্যবধানে প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে এক হাজার ২৫১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এ সময় পুরো ব্যাংকিং খাতের প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে দুই হাজার ১৯৫ কোটি ১৪ টাকা। এ সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রভিশন হলো খেলাপি ঋণের বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নির্দিষ্ট পরিমাণে সঞ্চিতি, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মুনাফা থেকে রাখতে হয়। মুনাফার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক প্রভিশন সংরক্ষণ করে থাকে। মুনাফা না হলে বা ব্যাংকের অন্যান্য পারিপাশ্বিক অবস্থা ব্যাংকের অনুকূলে না থাকলে ব্যাংকগুলো প্রভিশন সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৭২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর আগে ডিসেম্বর প্রান্তিকে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫২৭ কোটি ৩৯ টাকা।

সর্বোচ্চ প্রভিশন ঘাটতিতে আছে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে খেলাপি ঋণের সংরক্ষণ করেছে ৩৪ হাজার ৮৫৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। কিন্তু এসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণ করেছে ২৫ হাজার ৭২২ কোটি ১২ লাখ টাকা।

এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ৯ হাজার ১৩৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। গত বছর এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার ৬৯৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এ খেলাপি ঋণের পরিবর্তে প্রভিশন সংরক্ষণ করার কথা ছিল ২৮ হাজার ৯২৮ কোটি ৩৪ টাকা। প্রভিশন রেখেছিল ২১ হাজার ৬৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৮৬৪ কোটি ৬১ টাকা। কিন্তু তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতি দুইই বেড়েছে। বেসরকারি বাণিজ্যিক ৪৯টি ব্যাংকের বর্তমান খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫২ হাজার ২০৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখার কথা ছিল ২৯ হাজার ৮৬৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যাংকগুলো প্রভিশন কম রেখেছে ১৬ হাজার ৪৩৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বেসরকারি যেসব বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রভিশন রাখতে ব্যর্থ হয়েছে সে ব্যাংকগুলো হলো, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্শিয়াল ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক।