নজর প্রবাসী কল্যাণে

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

নজর প্রবাসী কল্যাণে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ১২:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

print
নজর প্রবাসী কল্যাণে

আসন্ন বাজেটে প্রবাসী আয়ে ভর্তুকি দেওয়া হতে পারে। যারা বৈধ চ্যানেলে দেশে পরিবার-পরিজনদের কাছে অর্থ পাঠাবে এবং বিদেশিমুখী কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য এ ভর্তুকি দেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, এ খাতে তিন হাজার কোটি টাকা রাখা হতে পারে।

সূত্রটি জানায়, হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা আনা রোধ ও পাচার বন্ধে সরকার এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। এ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়বে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতের বৈদেশিক দেনদেন ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা বাড়বে।

এ ব্যাপারে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত বছর বাজেটের পর বলেছিলেন, প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠায়, তাদের একটু সুযোগ দেওয়া হবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রবাসী আয়ের বিপরীতে ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেটে প্রবাসীদের কল্যাণে ভর্তুকি রাখার বিষয় ঘোষণা করবেন। সংশ্লিষ্টরা জানায়, দেশের অর্থনীতির তিন নায়কের মধ্যে প্রবাসী শ্রমিকরা অগ্রগণ্য।

অন্য দুই হচ্ছেন কৃষক আর গার্মেন্ট শ্রমিক। কৃষক ও গার্মেন্ট মালিকরা সরকারের কাছে থেকে সুবিধা পেলেও প্রবাসীরা কিছুই পান না। প্রবাসীদের আয়ে ভর্তুকি দেওয়া হলে তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করা হবে।

বিদেশে কর্মরত শ্রমিকরা প্রতিবছর দেশে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার পাঠায়। প্রতিবছর এ মুদ্রা পাঠানো বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ২২৮ বিলিয়ন ডলার; ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে আসে ১৫ দশমিক ৩১৬ বিলিয়ন ডলার; ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আসে ১৪ দশমিক ৯৩১ বিলিয়ন ডলার; ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ১২ দশমিক ৭৬৯ বিলিয়ন ডলার; ২০১৭-১৮-তে আসে ১৪ দশমিক ৯৮১ বিলিয়ন ডলার এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১০ মাসে প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠিয়েছে ১৩ দশমিক ৩০৩ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু দেশে পাঠানো এই অর্থের দ্বিগুণ অর্থ অবৈধ চ্যানেল হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হয়। ফলে অন্য দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যায়। হুন্ডির মাধ্যমে প্রবাসী আয় দেশে আসার ক্ষেত্রে ওই দেশে বসে থাকা হুন্ডির এজেন্টরা প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেয়। আর দেশে অবস্থানরত অপর এজেন্ট প্রবাসীদের পরিজনদের কাছে টাকা দিয়ে দিয়ে। এর ফলে প্রবাসীর পরিজনরা দেশে টাকা পেলেও প্রবাসী আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। এ ছাড়া দেশে টাকা না পাঠিয়ে বিদেশে পাঠানোর ঘটনাও ঘটছে। এর ফলে দেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠালে একই সঙ্গে দেশ ও প্রবাসীদের পরিজনরা উপকৃত হন। প্রবাসীরা যখন বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠান তখন ব্যাংকগুলো বাংলাদেশি মুদ্রায় ওই অর্থ স্থানান্তর করে দেশে অবস্থানরত পরিজনদের কাছে হস্তান্তর করে। আর ওই বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অর্থ হিসাবে জমা থাকে। কিছু অর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও জমা রাখে। এ অর্থ বৈদেশিক বাণিজ্য ও ঋণ পরিশোধে ব্যবহৃত হয়। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ আকারে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা থাকলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহজ শর্তে বৈদেশিক ঋণ পেতে পারে। আমদানির ক্ষেত্রে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে দেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। এ জন্য বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে অনুপ্রাণিত করতে সরকার ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ৭-৯ লাখ মানুষ দেশের বাইরে যায়। বিপুলসংখ্যক জনশক্তি বাইরে গেলেও এর প্রায় পুরোটাই অদক্ষ। ফলে তাদের উপার্জনও কম। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তাদের বিদেশে পাঠাতে চায়। বর্তমানে সীমিত পরিসরে এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু আছে। তবে যারা দালালের মাধ্যমে বা অবৈধভাবে বিদেশে যান তারা প্রশিক্ষণ ছাড়াই যান।

আগামীতে বিদেশগামী এসব জনশক্তিকে যাতে প্রশিক্ষিত করে বিদেশে পাঠানো যায় সে জন্য ভর্তুকি দিতে চায় সরকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো রোধ ও প্রশিক্ষিত করে শ্রমিকদের বিদেশে পাঠাতে পারলে প্রবাসী আয় ১৫ বিলিয়ন ডলারের কোটা থেকে কয়েক বছরের মধ্যে ৩০ বিলিয়নে উত্তীর্ণ হওয়া অসম্ভব নয়।