এডিপিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পদ্মা সেতু

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

এডিপিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পদ্মা সেতু

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

print
এডিপিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক। এ দেশের মানুষের গায়ে দুর্নীতির কালিমালেপন করে বিশ^ব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন থেকে সরে যায়। একই পথ অনুসরণ করে এডিবি ও জাইকার মতো বহুজাতিক অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান। বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বে সমালোচনাও শুরু হয়। এতে যোগ দেয় দেশের কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি এমন অবস্থানে অনড় থাকে বাংলাদেশ। কানাডার আদালতে প্রমাণিত হয় বাংলাদেশ দুর্নীতি করেনি, বিশ্বব্যাংক ইচ্ছাকৃত বাংলাদেশের নেতৃত্বকে অপবাদ দিয়েছে। বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে যাচ্ছে পদ্মা সেতুতে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আসন্ন বাজেটে এডিপির আকার প্রায় ২ লাখ ৭২১ কোটি টাকা। একই সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে জন্য খাতভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হচ্ছে পরিবহন খাতে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় পরিবহন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এ ছাড়া অগ্রাধিকার খাত বিবেচনায় বিদ্যুৎ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১২ শতাংশ। এক প্রকল্প হিসাবে পদ্মা সেতুতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব।

এ ছাড়া অন্যান্য খাতে বরাদ্দের পরিমাণ হচ্ছে, শিক্ষার প্রসার ও গুনগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ ছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ নির্মাণসহ তথ্য ও প্রযুক্তি প্রসারের লক্ষ্যে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা ও অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কৃষি খাতে খাতে ৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বা ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে। নদীভাঙন রোধ ও নদীর ব্যবস্থাপনার জন্য পানি সম্পদ খাতে ৫ হাজার ৬৫২ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হচ্ছে এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে জনপ্রশাসন খাতে ৫ হাজার ২৪ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ ২৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রথম ১০ নম্বরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ৯ হাজার ৯৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ৮ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা, সেতু বিভাগ ৮ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ২৫৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা খসড়া বরাদ্দ ধরা হয়েছে।