সবচেয়ে বেশি চাপে সামষ্টিক অর্থনীতি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬

বাজেটপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি

সবচেয়ে বেশি চাপে সামষ্টিক অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

print
সবচেয়ে বেশি চাপে সামষ্টিক অর্থনীতি

দেশে গত ১০ বছরের মধ্যে বর্তমানের সামষ্টিক অর্থনীতি সবচেয়ে চাপে রয়েছে বলে দাবি করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে চির ধরছে, এটি রক্ষা করাই আগামী বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে ‘জাতীয় অর্থনীতির পর্যালোচনা ও আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গ’ নিয়ে সিপিডির সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ে জোর দিতে সরকারকে সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এগুলো হলো রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং টাকার বিনিময় হারকে নমনীয় করা।

বাজেটের চালেঞ্জ নিয়ে সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্র্য বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে চির ধরছে, এটি রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ। এর ভেতরে তিনটি বিষয়কে জোর দিয়ে নিয়ে এসেছি। একটি হলো রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার এবং টাকার বিনিময় হারকে নমনীয় করে নিচের দিকে ঠিক করে নিয়ে আসা। আর সামাজিক খাতের ব্যয়ের বিষয়টি তো রয়েছেই।

আওয়ামী লীগের গত ১০ বছরের শাসনকালে অর্থনীতিতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা এখন ‘সীমান্ত রেখায় উপনীত’। প্রবৃদ্ধির হার ও মাথাপিছু আয়ের হারকে ‘ভালো’ বললেও বেসরকারি বিনিয়োগ খরাকেই বড় সমস্যা হিসেবে দেখছে সিপিডি।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশের ব্যক্তি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, শিল্পায়নের ক্ষেত্রে ও সামাজিক ক্ষেত্রে আশানুরূপ উন্নতি দেখতে পাচ্ছি না। প্রবৃদ্ধির ধারার সঙ্গে অন্যান্য উন্নয়ন সূচকের একটি বৈসাদৃশ্য আছে। বাংলাদেশে গত ১০ বছরের যে কোনো সময়ের চেয়ে সামষ্টিক অর্থনীতি এখন চাপের মুখে আছে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অর্থনীতির একটি শক্তি ছিল। সেই শক্তিতে চির ধরছে, সেই শক্তিতে দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এটি অতিক্রম না করা গেলে উন্নয়নের জন্য যে অভিলাষ সেখানে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করার সুযোগ কম হবে। এবং অন্য উৎস থেকে যদি বিনিয়োগ করার চেষ্টা করি, তাহলে এই সামষ্টিক অর্থনীতি আরও খারাপ হওয়ার সুযোগ আছে।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি আশাপ্রদ হলেও বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের বলে মনে করছে সিপিডি। দেবপ্রিয় বলেন, এর ফলে আমাদের বৈদেশিক রিজার্ভ দ্রুততার সঙ্গে নেমে আসছে। সরকার যেটা করছে ডলার বিক্রি করে টাকাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। টাকাকে নিচে নামিয়ে আনতে হবে, প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে চালু রাখতে হবে। ৩ শতাংশের বেশি উচ্চ রয়ে গেছে।

ব্যাংক খাতে নিয়ে আগের মতোই সরকারের সমালোচনা করে দেবপ্রিয় বলেন, বর্তমান সরকার আসার পর যে কয়টি পদক্ষেপ নিয়েছে, প্রতিটি পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতের জন্য আরও বেশি ক্ষতিকারক হয়েছে। খেলাপি ঋণ ১ টাকাও বাড়বে না বলে ঘোষণার পর তার বদলে ১৭ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। সুদের হার নিয়ে নাড়াচাড়া করে ব্যাংকিং খাতের সমাধান হবে না। সুদ সুবিধা দিলে কোটি কোটি টাকা ব্যাংকে দিয়ে যাবে, এটা ভুল তত্ত্ব। কাঠামোগতভাবে যদি সুশাসনের ব্যবস্থা না আনা যায়, যদি প্রকৃত তসরুপকারীদের শাস্তি না দেওয়া যায়, ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট দেখা দেবে।

কৃষককে ৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার সুপারিশ
এ দিকে ধানের কম দামে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে ৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে সুপারিশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

কার্ডধারী প্রতি কৃষকের অ্যাকাউন্টে পাঁচ হাজার টাকা করে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে তারা। এটা করা না হলে কৃষকরা এবার যে ক্ষতির মুখে পড়েছে তা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে বলে মনে করছে বেসরকারি সংস্থাটি।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, শিল্প ও কৃষির ভেতরে যে বাণিজ্য শর্ত থাকে, সে শর্ত কৃষকের বিপরীতে গেছে। অর্থাৎ গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে উদ্বৃত্ত শহরে চলে গেছে, আর শহর থেকে এটি বিদেশে চলে যাচ্ছে। উদ্বৃত্ত সঞ্চালনের এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের কৃষকের পক্ষে আগামী দিনে টিকে থাকা খুবই জটিল হবে।

এবার ধান-চালের দাম নিয়ে কৃষকের সমস্যাটি স্পষ্ট হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার সময়মতো চাল আমদানি বন্ধ করেনি, ঠিকমতো সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রাও দেয়নি। রপ্তানির বিষয়টি যদি উঠে থাকে তাহলে সময়মতো তা হয়নি, আমদানি শুল্ক অনেক দেরি করে আরোপ করা হয়েছে। এক ধরনের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার এমন প্রকট চিত্র কোনো খাতে এমনভাবে নেই, যতখানি কৃষকের সঙ্গে করা হয়েছে এ বছর।