কৃষিঋণ বিতরণে কঠোর হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬

কৃষিঋণ বিতরণে কঠোর হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

জাফর আহমদ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯

print
কৃষিঋণ বিতরণে কঠোর হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ধারাবাহিকভাবে যে সব বাণিজ্যিক ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণ করছে না সে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন শাস্তির আওতায় কৃষিঋণ বিতরণে ব্যর্থ ব্যাংককে নেতিবাচক সনদ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে অন্যান্য খাতে ভালো সুনাম করলেও কৃষিঋণ বিতরণ না করে খারাপের তকমা বহন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে বিতরণ করা মোট ঋণের দুই ভাগ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করতে হয়। যে সব বাণিজ্যিক ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে ব্যর্থ হয় বছর শেষে ওই সব ব্যাংকের একাউন্ট থেকে সমপরিমাণ টাকা কেটে রাখা হয়। পরবর্তী বছর লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসাবে আগের বছরের অনর্জিত ঋণের সমপরিমাণ টাকা বিতরণ করলে কেটে রাখা টাকা ফেরত দেওয়া হয়। সবশেষ অনর্জিত টাকার সমপরিমাণ টাকা একেবারে কেটে রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরপরও কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে ব্যর্থ হয়।

 

কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, মধুমতিসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক রয়েছে। যে সব ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। এ সব ব্যাংকের বিরুদ্ধে নতুন শাস্তি হিসাবে ক্যামেল রেটিংয়ের নেতিবাচক সনদ দেওয়া হবে। যাতে করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবসার অগ্রগতির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফলে। এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কৃষিঋণ বিতরণে উদ্যোগী হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণীত ‘কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি’র আলোকে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে।

ক্যামেল রেটিং হলো ব্যাংকের সামর্থ্য পরিমাপের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিমাপক। ব্যাংকের মূলধন, সম্পদ, ব্যবস্থাপনা, আয় ও তারল্য এর সামর্থ্যকে কোন ব্যাংকের কতটুকু তা এই ক্যামেল রেটিংয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। কৃষি ঋণ বিতরণে যে সব ব্যাংক অব্যাহতভাবে খারাপ করবে সে ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নেতিবাচক সনদ দেওয়া হবে।

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা সৃষ্টিতে কৃষিতে অর্থ সরবরাহে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ কারণে সরকার প্রয়োজনীয় নানা রকম ভর্তুকি দিয়ে আসছে। সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষিতে তথা পল্লী অঞ্চলে অর্থ সরবরাহ বাড়াতে প্রত্যেক ব্যাংককে বাধ্য করে। কৃষি ঋণের সুদ হার নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সর্বনিম্ন হার বেঁধে দেওয়া হয়। যে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে নিজস্ব শাখা নেই সে সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর ফলে প্রত্যেক বছর কৃষিঋণ বিতরণ বাড়ছে। যা সরাসরি কৃষিখাতে চলে যাচ্ছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরেও কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল ১০ মাসে কৃষিঋণ বিতরণ ১৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। একইভাবে আদায় ব্যবস্থাও এগিয়ে আছে। কৃষিঋণ ব্যবহার শেষে কৃষকরা ফেরতও দিচ্ছে। জুলাই-এপ্রিল ১০ মাসে কৃষকরা প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে। কৃষিঋণ বিতরণ ব্যবস্থা আরও জোরদার ও কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্যামেল রেটিং ব্যবস্থাপনা প্রয়োগের মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে।