উড়ে গেল বাংলাদেশ ব্যাংকের জানালা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ১ শ্রাবণ ১৪২৬

উড়ে গেল বাংলাদেশ ব্যাংকের জানালা

জীবন বীমায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ১০:০৪ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০১৯

print
উড়ে গেল বাংলাদেশ ব্যাংকের জানালা

ভয়াবহ সিলিন্ডার বিস্ফোরণে উড়ে গেল মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মূল ভবনের জানালা ও পাশেই অবস্থিত জীবন বীমা করপোরেশনের দরজা-জানালা। এ সময় কমপক্ষে চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আহতরা সবাই ওয়ার্কশপ কর্মী। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষিণ পাশে জীবন বীমা করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেলুন ফোলানোর সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও জীবন বীমা করপোরেশনের মাঝখানের গলিতে সরেজমিন দেখা যায়, কড়া পুলিশি পাহারা সেখানে। ঘটনার স্থান জীবন বীমার প্রধান ফটকের সামনে তিনটি সিলিন্ডার এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। পুরো এলাকাজুড়েই কাচের টুকরো। বিস্ফোরণ হওয়া সিলিন্ডারটি সকালেই নমুনা হিসেবে পুলিশ নিয়ে গেছে। পাঁচ থেকে ছয় মিটার দূরে ভিন্ন ভিন্ন চার স্থানে রক্তে ভিজে আছে মাটি। বিস্ফোরণের সময় কর্মরত শ্রমিকরা এসব স্থানে ছিটকে পড়েন।

বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল, প্রায় ২০ মিটার দূরে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন থেকে ছয়তলা পর্যন্ত কাচের জানালা ভেঙে যায়। এসব রুমে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুইজন ডেপুটি গভর্নর, ছয়জন নির্বাহী পরিচালক ও অন্য কর্মকর্তারা বসেন। বিস্ফোরণ ঘটনার এক মিটারের মধ্যে জীবন বীমার এমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বসেন। এ ভবনের চারতলা পর্যন্ত জানালা দরজা ভেঙে গেছে। ভবনের ভেতরের কাচের আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

ঘটনাস্থলে কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দুর্ঘটনাটি সকাল ৮টার আগে না ঘটে অফিস চলাকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক ও জীবন বীমা করপোরেশনে কর্মরতদের বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা ছিল।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তাকর্মী মোস্তফা কামাল জানান, তারা ভবনটির ভেতরে বসে ছিলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রচ- শব্দে পুরো ভবন ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। উপরে কাচের জানালা ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে পান তারা। তিনি বলেন, ওপরে গিয়ে দেখতে পাই তিনতলা পর্যন্ত ফ্লোরে কাচের জানালাসহ কাচের আসবাবপত্র ভেঙে গেছে। ভবনের জানালা দিয়ে দেখতে পাই চারজন ছিটকে পড়ে আছেন। তাদের পুরো শরীর রক্তে ভিজে গেছে। আহত এসব কর্মীকে ভ্যানে তুলে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় সেখানে পুলিশের গাড়ি এলে আহতদের ওই গাড়িতে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো কেপিআইভুক্ত এমন একটি প্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সেখানকার কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভবনের বাইরের একটি বিস্ফোরণে পাঁচতলা পর্যন্ত জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। আর্থিক খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ জায়গা এ ধরনের অরক্ষিত থাকা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খোলা কাগজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমিও চিন্তিত। কিন্তু বাংলাদেশের মতো ঘনবসতি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ইচ্ছা করলেই শতভাগ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এর মধ্যেই আমাদের কাজ করতে হবে। এ জন্য ব্যাংকের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। আশপাশের ভবনগুলোকেও সতর্ক করা হবে যাতে পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয় এ রকম কোনো কর্মকাণ্ড যাতে তারা না করেন।