অর্থনৈতিক গণতন্ত্র ছাড়া অচল রাজনৈতিক গণতন্ত্র

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯ | ১০ আষাঢ় ১৪২৬

অর্থনৈতিক গণতন্ত্র ছাড়া অচল রাজনৈতিক গণতন্ত্র

বাজেট আলোচনায় রেহমান সোবহান

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৯

print
অর্থনৈতিক গণতন্ত্র ছাড়া অচল রাজনৈতিক গণতন্ত্র

সমাজে বৈষম্য অনেকে বেড়েছে। দিন দিন বৈষম্য আরও বাড়ছে। অল্প কিছু মানুষ এখানে বসে উন্নত বিশ্বের মানের জীবন যাপন করছেন। আর লাখ লাখ শ্রমিক বাস করছেন তৃতীয় বিশ্বের মানের। বৈষম্যের শিকার এসব মানুষের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখার জন্য কথা বলার কেউ নেই, শোনারও কেউ নেই। অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান এক বাজেট আলোচনায় গতকাল এসব কথা বলেন।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আসন্ন বাজেট : শ্রমিক কর্মচারী ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় গতকাল। সেমিনারের আয়োজক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)।

রেহমান সোবহান বলেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য যত বাড়বে, রাজনৈতিক বৈষম্য ততই বাড়বে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্র না থাকলে রাজনৈতিক গণতন্ত্রও থাকবে না। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, সরকারের বর্তমান ধারায় দারিদ্র্য হয়তো কমবে, কিন্তু বৈষম্য আরও বাড়বে।


বাজেটে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করার প্রসঙ্গে খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, শ্রমিকরা অনেক ভাগে বিভক্ত। কিন্তু মালিকরা ঐক্যবদ্ধ। উদাহরণ হিসেবে তিনি পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এরা রাজনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী। তাদের অনেকে এখন সংসদ সদস্য, মন্ত্রী। তাদের কীভাবে মোকাবেলা করবেন শ্রমিকরা। অর্থমন্ত্রী নিশ্চয়ই তাদের কথাই গুরুত্ব দিয়ে শুনবেন।

বাজেট আলোচনা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রেহমান সোবহান বলেন, একজন অর্থমন্ত্রী ছিলেন ১০ বছর। প্রতিবছরই তিনি আলোচনা করেছেন অনেকের সঙ্গে। সবাই ১০ বছর ধরেই একই কথা বলে গেছেন। তিনি শুনেছেন কি না সন্দেহ। প্রথম দুই তিন বছর আমি কথা বলেছি। পরে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি। সেখানেও ব্যবসায়ীদের কথা বেশি গুরুত্ব পায়। কারণ, তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি আছে। এখন প্রায় ৭০ শতাংশ সংসদ সদস্যই ব্যবসায়ী।

রেহমান সোবহান বলেন, রাজনীতি ও ব্যবসার মধ্যে যে সীমারেখা ছিল, তাও এখন উঠে গেছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, টিইউসির সভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদুল ইসলাম।