ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫
বিশ্বকাপে বাণিজ্য
সাজেদুর রহমান
Published : 2018-06-13 22:21:00
বিশ্বকাপে বাণিজ্য

অপেক্ষার প্রহর শেষ। আজ বৃহস্পতিবার পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের। সমগ্র বিশ্বে সবচেয়ে আলোড়ন তোলা ইভেন্ট ফুটবল বিশ্বকাপ।

এটা শুধু খেলাই নয়, এর সঙ্গে জড়িত থাকে বিশাল মাপের অর্থনীতি। মার্কিন রেটিং সংস্থা মুডিজের পূর্বাভাস, বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাশিয়াসহ সারা পৃথিবী ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যবসা হবে। আর রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশের ১৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হবে। বিশ্ব মাতানো এ আসরে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখা জার্সি প্রস্তুত করনে। অংশগ্রহণ করা ৩২ দেশের মধ্যে ১৯টি দেশের জার্সি গেছে এখান থেকে। শুধু তাই নয়, স্পোর্টস এক্সরিসে একটা বড় অংশের তৈরিকারক বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ    
রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সিংহভাগ জার্সিই বাংলাদেশে থেকে বানানো। জার্সিতেই শেষ নয়, গেঞ্জি, হাফপ্যান্টসহ নানা ধরনের পণ্য তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন গার্মেন্টে। বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক সংস্থা ফিফার কার্যাদেশের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান ব্র্যান্ড অর্থাৎ রিবক, নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা, কেরিফোর, সিঅ্যান্ডএ, এইচঅ্যান্ডএম এসব পণ্য আমদানি করছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে, চলতি বছরে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ প্রায় ১০০ কোটি ডলার বা ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করেছে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে রপ্তানি করেছিল প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পণ্য। সে তুলনায় এবার ৩০ কোটি ডলার বা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার পণ্য বেশি পাঠাতে পেরেছে। অর্থৎ পোশাক রপ্তানি আগেরবারের তুলনায় ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) জানিয়েছে, ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, ইংলিশ, স্পেন, বেলজিয়াম, ইতালি, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, পেরু, কোস্টারিকা, সুইডেন, পোল্যন্ড, উরুগুয়ে ও রাশিয়াসহ ১৯ দলের জার্সি তৈরি হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ডজন খানেক গার্মেন্টে। রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, এ ছাড়াও খেলার সামগ্রী অর্থাৎ গেঞ্জি, হাফপ্যান্ট, শীতের পোশাক, ট্রাউজার, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জাতীয় পতাকা ইত্যাদি তৈরি হয় শতাধিক নিট পোশাক কারখানায়।
সাবেক ফুটবলার ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী জানান, ফিফার কার্যাদেশের বাইরেও ফুটবলপ্রেমীদের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন দেশের পতাকা বা জার্সির রঙে বিভিন্ন পোশাক তৈরি করে রপ্তানি করছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। এগুলো মূলত, ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিক্রি করা হয়।
ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে দেশের টেলিভিশন বাজার চাঙ্গা হয়েছে। চাহিদা বাড়ায় টেলিভিশন কোম্পানি বিভিন্ন অফার দিচ্ছে। টেলিভিশন কিনলেই কুপন। কুপন বিজয়ী ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ড যাওয়ার সুযোগ থাকছে। সামসাং ইলেকট্রনিকসের মার্কেটিং ম্যানেজার নাহিদ হাসান জানান, বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার বেচাকেনা হয়।
এ ছাড়াও রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে শতাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এক্সেসরিজ বিক্রির করছে। বেসিস ই-কমার্স অ্যালায়েন্সের কো-চেয়ার ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান প্রিয়শপ ডট কমের প্রধান নির্বাহী আশিকুল আলম খান বলেন, ঢাকার বাইরে বিক্রি বেশি হয়েছে।       
আন্তর্জাতিক ব্যবসা ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার  
বিশ্বকাপ ফুটবলের ২১তম আসরের জন্য এখন প্রস্তুত বিশ্ব। শুধু আয়োজক রাশিয়া, কিংবা অংশগ্রহণকারী ৩২টি দেশেই নয়, সারা বিশ্বই এ উপলক্ষে ব্যবসা করছে। ইলেকট্রনিক কোম্পানি, টিভি স্পন্সার, সুভেনির, এয়ারলিনস, পরিবহন, পোশাক, খেলার সামগ্রী ইলেকট্রনিকস এবং প্রিন্ট মিডিয়াসহ সব ক্ষেত্রে ব্যবসা হচ্ছে।         
রাশিয়ান চেম্বার অব অ্যাকাউন্ট গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ব্যয় করেছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা। আর মোট ব্যয় হচ্ছে ১১ বিলিয়ন ডলার (৬৮৩ বিলিয়ন রুবল)। মার্কিন রেটিং সংস্থা মুডিজের গবেষণায় উঠে এসেছে, বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে রাশিয়ার জিডিপি ১.৬২ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ১.৯২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। আর সারা পৃথিবীতে ব্যবসা হবে এক ট্রিলিয়নের মতো।    
২৫ এপ্রিল রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী আর্কদি দেভোরকোভিচ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, বিশ্বকাপই এখন রাশিয়ার সব ধরনের আর্থিক প্রবৃদ্ধির প্রাণভোমরা। বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার জেরে রাশিয়ার জিডিপি থাকবে ২৬০০ কোটি থেকে ৩০৮০ কোটি ডলারের মধ্যে।
মুডিস বলছে, এশিয়ার দেশ জাপান ২০০২ সালের বিশ্বকাপে জাপান খেলায় শুধু টেলিভিশন সেট বিক্রি করেই তারা ৪৬০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বকাপ আয়োজন করে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া উভয়েই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো. আহসান হাবীব
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
ড. কাজল রশীদ শাহীন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : editorkholakagoj@gmail.com    kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by Khola Kagoj IT Team. Email : rafiur@poriborton.com
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();