পিছিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯ | ৬ চৈত্র ১৪২৫

আধুনিক গ্রাহকসেবা

পিছিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক

জাফর আহমদ ১০:১৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৯

print
পিছিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে ঘরে বসে ব্যাংকিং সুবিধা দিচ্ছে। দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সেখানে সকল শাখার কম্পিউটার বসিয়েই বলছে অটোমেশন করার দায়িত্ব শেষ করে। আর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে হলে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রয়োজনীয় রিসোর্স থাকার পরও মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানো যাবে না।

এক তথ্যমতে, ২০১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করুণ অবস্থা। এতে কৃষি ব্যাংকের ১ হাজার ৩০ শাখার মধ্যে অটোমেশন শাখার সংখ্যা ১০০ এর কিছু ওপরে। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৪০০ শাখার মধ্যে অটোমেশনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। সরকার যেখানে সবক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রক্রিয়া শুরু করেছে, সেখানে রাষ্ট্র মালিকানাধীন এ দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকে লেনদেন ও ঋণ কার্যক্রম চলে এখনো অ্যানালগ পদ্ধতিতে। এদিকে দেশের ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএলের মোট ৩ হাজার ৬৯৬টি শাখার মধ্যে অটোমেশন হয়েছে ২ হাজার ৪২৬টি শাখা। অর্থাৎ ১ হাজার ২৭০টি শাখা এখনো অটোমেশনের বাইরে রয়ে গেছে। তবে ২০১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ হার কিছুটা বেড়েছে।

অপর দিকে আধুনিক ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে। বিভিন্ন প্রকার কার্ডের প্রচলন, মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিং এগিয়ে আছে বেসরকারি এসব বাণিজ্যিক ব্যাংক। বেসরকারি ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক রাজধানীর আনাচে-কানাচে এটিএম বুথের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়েছে। তারা এক ব্যাংকের বুথ ব্যবহার করে আরেক ব্যাংকের সেবা দিচ্ছে। এ সেবা বিভাগীয় শহরে থেকে উপজেলায় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। শ্রমনিবিড় শিল্পখাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরাও বেতন তোলার ক্ষেত্রে এসব এটিএম বুথ ব্যবহার করছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সেখানে অনেক শাখায় এখনো কম্পিউটারই সংযোজন করতে পারেনি। গ্রাহকদের সঙ্গে সেবার ধরন অনেকটা প্রভু-ভৃত্য সম্পর্কের মতো। গ্রাহকসেবার সঙ্গে বেতনের সম্পর্ক না থাকার কারণে কাজও অনেক দায়সারা গোছের।

এ ব্যাপারে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এখানে এখনো এনালগ পদ্ধতিতে চলছে। কোর ব্যাংকিংসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা চলছে তার সমাধান প্রয়োজন। তারা আধুনিক ব্যাংকিং বলতে যা বোঝান তা নিয়েও সন্দেহ আছে। ব্যাংকের কর্মীর আধুনিক ব্যাংকিংয়ে সমৃদ্ধ করতে হলে প্রয়োজনে বিদেশে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তিনি বলেন, প্রপার টেকনোলজি ব্যবহারের সুবিধা নিতে হবে। টেকনোলজি স্থাপন শুরু করলেন, কাজ শুরু করতে করতে ওই টেকনোলজির নতুন সংস্করণ চলে এলো-এমন হলে চলবে না। টেকনোলজির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তাও জোরদার করতে হবে। সচিব সম্প্রতি অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের ভিন্ন দুই ব্যবসায়ী সম্মেলন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ আহমেদ খোলা কাগজকে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহারে পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে যখন অটোমেশনের জন্য কোনো রিকোয়ারমেন্ট পাঠান তখন মন্ত্রণালয় অযথাচিতভাবে দেরি করে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটিও এক সময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কার্যনির্বাহী পর্ষদ কম সময় থাকে বলে তত গুরুত্ব দেওয়ার সময় পায় না। অথবা বুঝতে বুঝতেই মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এর ফলে টেকনোলজি ইনস্টল করলেও তা ‘ব্যাক ডেটেড’ হয়ে যায়। এর ফলে প্রযুক্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক। সাবেক এই গভর্নরের মতে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করা গেলে খেলাপি ঋণ কমনো যেত।