রেমিট্যান্স বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে

ঢাকা, রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ২ ভাদ্র ১৪২৬

রেমিট্যান্স বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক ১২:৫০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

print
রেমিট্যান্স বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে

ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে টাকা পাঠাতে সরকারের নানা উদ্যোগ, হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি ও সেই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে টাকা বেশি পাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। এরই ধারাবাহিকতায় রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকেও।

চলতি বছরের প্রথম মাসেই মধ্যপ্রাচ্যের সাত দেশ থেকে মোট ৯২ কোটি ৬১ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা একক মাস হিসাবে চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ি, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে মোট ৯০৮ কোটি ৬১ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৫৩৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। প্রবাসী আয় পাঠানোর শীর্ষে থাকা ১০ দেশের মধ্যে ৬টিই মধ্যপ্রাচ্যের।

এর মধ্যে জানুয়ারিতে সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। সৌদি আরব থেকে প্রবাসীরা মোট ২৯ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা জানুয়ারিতে পাওয়া রেমিট্যান্সের সাড়ে ১৮ শতাংশেরও বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোয় শীর্ষ বাকি ১০ টি দেশ হচ্ছে- আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, ইতালি ও বাহরাইন।

জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটি থেকে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। এরপর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। চতুর্থ স্থানে থাকা কুয়েত থেকে এসেছে ১৪ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১২ কোটি ২৮ লাখ ডলার। মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১০ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। কাতার থেকে এসেছে ৯ কোটি ৬১ লাখ ডলার, ওমান থেকে ৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার, ইতালি থেকে ৮ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং বাহরাইন থেকে ৪ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, বিগত বছরে (২০১৮) প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে মোট এক হাজার ৫৫৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০৪ কোটি ডলার বা প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১৭ সালে এসেছিল এক হাজার ৩৫৩ কোটি ডলার। তার আগের বছর ২০১৬ সালে এসেছিল এক হাজার ৩৬১ কোটি ডলার। ২০১৫ সালে এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। আর ২০১৪ সালে রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪৯২ কোটি ডলার।

রেমিটেন্সের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত চার বছরের মধ্যে দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছে। এ সময় রেমিটেন্স এসেছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ ছিল এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলার।

এছাড়াও সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিল প্রবাসীরা। যা এর আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।