জিডিপিতে সরকারের ঋণনির্ভরতা কমেছে

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

জিডিপিতে সরকারের ঋণনির্ভরতা কমেছে

জাফর আহমদ ১০:২৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

print
জিডিপিতে সরকারের ঋণনির্ভরতা কমেছে

দেশের অভ্যন্তরীণ মোট উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ বাড়ছে, বাড়ছে প্রবৃদ্ধি। একইসঙ্গে বাড়ছে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম। কিন্তু একইহারে সরকারের ঋণের পরিমাণ বাড়েনি। বরং প্রতিবছর ক্রমহ্রাসমান হারে ঋণের পরিমাণ কমে আসছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, গত ১০ বছরে জিডিপি বেড়েছে ২৬৬ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি বেড়েছে অতিরিক্ত দুই শতাংশ। ২০০৮-৯ অর্থবছরে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) বাজার মূল্য ছিল ৬,১৪৮ বিলিয়ন টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জিডিপির বাজার মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ২২,৫০৪ বিলিয়ন টাকা। ১০ বছরের ব্যবধানের জিডিপি বেড়েছে ১৬ হাজার ৩৫৬ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন টাকা। অর্থাৎ ১০ বছরের জিডিপি বেড়েছে আড়াইগুণেরও বেশি। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে অতিরিক্ত ২ শতাংশ।

অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ২০১৭-১৮ বছরের এসে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের উৎপাদনের বাজার মূল্যের সঙ্গে বেড়েছে প্রবৃদ্ধির হার।

তথ্যে দেখা যায়, জিডিপির বাজার মূল্য বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়লেও সরকার সে হারে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়নি। বরং ঋণের স্থিতাবস্থা ধরে রেখেছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য সরকার নিজস্ব সম্পদের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জিডিপিতে সরকারের দেশি, বিদেশিসহ বিভিন্ন প্রকার ঋণের হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। ১০ বছরের ব্যবধানে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩১ শতাংশের কিছুটা ওপরে।

উন্নয়ন অব্যাহত রেখে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে আনার বিষয়টিকে সরকারের সক্ষমতায় পরিচায়ক বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, সম্পদ আহরণ ও তা উন্নয়নের কাজে সরকার মুনশিয়ানা দেখিয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বাড়লেও সে হারে ধার করতে হয়নি।

তিনি মনে করছেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাজস্ব বোর্ডের ভূমিকা বেশ জোরালো ছিল। কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষকদের সার, বীজ ও কৃষি উপকরণে ভর্তুকি দিয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কৃষকদের কাছে অর্থ সরবারহ করার কারণে খাদ্য উৎপাদন বেড়ে গেছে। এর ফলে খাদ্য আমদানি করতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়নি। এ অর্থ সরকার উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করেছে। এর ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতিশীল হয়েছে।

সরকারের প্রবাসী মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসী আয় আহরণের ক্ষেত্রেও সচেতন ভূমিকা পালন করেছে। একই সময় সরকার রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রকার প্রণোদনা দিয়েছে। ফলে রপ্তানি আয় বেড়েছে। এর ফলে সরকারকে বড় বড় প্রকল্প গ্রহণের জন্য বিদেশি ঋণের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হয়নি। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ মোট উৎপাদন বাড়লেও সে হারে ঋণ করতে হয়নি।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। যা বাজেটে প্রাক্কলিত মোট টাকার ৫ শতাংশ। আগের বছর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ও একই হারে বাজেট ঘাটতি ছিল। এ ঘাটতি মেটানোর জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে সরকারকে ধার করতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরও বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণের ঋণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।