স্কুল ব্যাংকিং এগিয়ে শহরে

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

স্কুল ব্যাংকিং এগিয়ে শহরে

জাফর আহমদ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৮

print
স্কুল ব্যাংকিং এগিয়ে শহরে

তিন বছরে ১৬ লাখ ৯ হাজার ৯৬১ জন শিক্ষার্থী স্কুল ব্যাংকিয়ের আওতায় এসেছেন। এসব হিসাবে (একাউন্টে) জমা হয়েছে এক হাজার ৪২৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। শিক্ষার্থীদের এ হিসাবের দুই-তৃতীয়াংশই শহরের শিক্ষার্থীদের, মোট জমা টাকার চার ভাগের তিন ভাগই শহুরে শিক্ষার্থীদের। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

শিশুদের সঞ্চয়ের মনোভঙ্গি গড়ে তোলার জন্য ২০১৫ সালে এপ্রিল মাসে স্কুল ব্যাংকিং শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে পাকিস্তান আমলে ১৯৬৬ সালে স্কুল ব্যাংকিং শুরু হয়। কিছুদিন চলার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে আবার শুরু করেন স্কুল ব্যাংকিং। শুরুর দিকে কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক স্কুল ব্যাংকিং শুরু করে। কিন্তু বর্তমানে স্কুল ব্যাংকিং করছে ৫৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
স্কুল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে শহরের শিক্ষার্থীরা। স্কুল ব্যাংকিংয়ের মোট হিসাবের মধ্যে ৬ লাখ ২১ হাজার ৪৯৮টি হিসাব ব্যাংকের গ্রামীণ শাখাগুলোতে খোলা হয়েছে। বাকি ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৫০৫টি হিসাব খোলা হয়েছে শহরের শাখাগুলোতে। একইভাবে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা জমা করেছেন শহরের শিক্ষার্থীরা। আর পল্লী অঞ্চলের শাখাগুলোতে সঞ্চয় হয়েছে ৩৬৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। স্কুল ব্যাংকিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ‘লিড ব্যাংকে’র প্রচারণা ভূমিকা রেখেছেন বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগের প্রধান আবুল বশর। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, ‘স্কুল ব্যাংকিং নিয়ে যখন আমরা বিভিন্ন সময় প্রমোশনমূলক অনুষ্ঠান করি তখন সেখানে শহরের শিক্ষার্থীরা বেশি অংশগ্রহণ করেন। এসব কারণে তারা বেশি সচেতন হয়। আর এর প্রভাব পড়েছে স্কুল ব্যাংকিংয়ে।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, শহরে আর্থিকভাবে তুলনামূলক সক্ষম মানুষের বসবাস বেশি হওয়ার কারণে তাদের সন্তানরা সঞ্চয় করার বেশি সুযোগ পায়। আগামী দিনে স্কুল ব্যাংকিং নিয়ে প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান করার সময় পল্লী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদেরও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   
ব্যাংকারদের মতে, স্কুল ব্যাংকিং একইসঙ্গে বর্তমান ও ভবিষ্যতের ব্যাংকিং হিসাবে গণ্য করা হয়। এখন যেসব শিশু সঞ্চয়ের জন্য ব্যাংকে যাচ্ছে তারাই বড় হয়ে ওই ব্যাংকের গ্রাহক হবেন। এ কারণে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অন্য ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম লুফে নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তথ্যে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে শিশুদের হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে, ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৩২৭টি। যা মোট হিসাবের ৩৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। বাকি ৬৪ দশমিক ২০ শতাংশ বেসরকারি দেশি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোতে। তবে টাকা জমার হিসাবে প্রায় ৮২ শতাংশ বা এক হাজার ২০৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা জমা করে শহরের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এ ধরনের ভূমিকাকে ইতিবাচক বলে মনে করেন আবুল বশর। তিনি বলেন, আগামী দিনের গ্রাহকের কথা চিন্তা করে যদি বেসরকারি ব্যাংকগুলো স্কুল ব্যাংকিংয়ে জোর দিয়ে থাকে তাহলে তারা ভালো করছেন। আমাদের উদ্দেশ্যও সেটা। আমরা আগামী দিনের ব্যাংকমুখী ও সঞ্চয় করা নাগরিক গড়ার লক্ষেই স্কুল ব্যাংকিং করছি।   
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, একক ব্যাংক হিসাবে শিশুরা সব চেয়ে বেশি হিসাব খুলেছে বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে। ব্যাংকটিতে হিসাবের সংখ্যা ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯৫টি। যা মোট হিসাবের ১৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। ব্যাংকটিতে শিশুদের জমাকৃত টাকার পরিমাণও সর্বোচ্চ ৪৩৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। যা মোট জমার প্রায় ৩১ শতাংশ। এরপরে রয়েছে যথাক্রমে- ইসলামী ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক।