রমরমা এজেন্ট ব্যাংকিং

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

রমরমা এজেন্ট ব্যাংকিং

জাফর আহমদ ১০:২৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

print
রমরমা এজেন্ট ব্যাংকিং

দেশের পল্লী অঞ্চলে বিকল্প ব্যাংকিং হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এজেন্ট ব্যাংকিং। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে অবকাঠামোগত সুবিধা ও জনবল তুলনামূলক কম হওয়ার কারণে পরিচালন ব্যয়ও কম হচ্ছে। এতে গ্রাহক পর্যায়েও কম খরচে সেবা পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উদীয়মান পল্লী এলাকাতে নতুন ধারার এ ব্যাংকিং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত এজেন্ট ব্যাংক-সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯০২ জন। এর মধ্যে গ্রামে হচ্ছে ৩৫১ জন, শহরে এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৫১ জন। আউটলেটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৯১টিতে। এর মধ্যে শহরে ৪৭৮টি আর শহরে আউটলেটের সংখ্যা ৫ হাজার ৩১৩টি। এসব আউটলেটের মাধ্যমে খোলা হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ২৮ হাজার ৮৬৪টি। এর মধ্যে গ্রামে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে ১৭ লাখ ৬১ হাজার ৭১১টি এবং ২ লাখ ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫টি শহরে। আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে ২ হাজার ৫৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

যেসব পল্লী অঞ্চল অর্থনৈতিক দিক থেকে বিকশিত হচ্ছে কিন্তু ব্যাংক শাখা খোলার মতো যথেষ্ট নয়, এসব এলাকায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট জামানতের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ করছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছে থেকে আমানত সংগ্রহ করে জামানতের সমপরিমাণ টাকা এজেন্টের কাছে রাখতে পারছে। গ্রাহকের আমানত এজেন্টের জামানত অতিক্রম করলে তা নিকটস্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখাতে জমা দিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে পল্লী অঞ্চলের ১৭ লাখ ৬১ হাজার ৭১১টি হিসাবের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ১৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আমানত সংগ্রহ হয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শহরাঞ্চলের ছিন্নমূল ও তুলনামূলক কম আয়ের মানুষ জমা করেছে ৫০৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এভাবে ব্যাংক দূরে, আবার এনজিও সেবাতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, এমন মানুষের কাছে এজেন্ট ব্যাংকিং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে দেশের মোট ১৭টি বেসরকারি ও ১টি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং করছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো হলো ডাচ্-বাংলা, ব্যাংক এশিয়া, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, দি প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংক।

আমানত সংগ্রহের পাশাপাশি ঋণ বিতরণেও ভূমিকা রাখছে এজেন্ট ব্যাংকিং। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সারা দেশের পল্লী ও শহরতলিতে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এনজিও। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর যাপিত জীবনের অবিচ্ছদ্য সঙ্গী হয়ে গেছে এসব ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা। কিন্তু যারা আর্থিকভাবে তুলনামূলক সক্ষম, তারা এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করছে। আমানত সংগ্রহ করার পাশাপাশি তারা ঋণও গ্রহণ করছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ১৫০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বিতরণ করেছে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এবং দি সিটি ব্যাংক এ ঋণ বিতরণ করেছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পল্লী অঞ্চল থেকে আমানত সংগ্রহ করে তা শহরাঞ্চলের মানুষের মাঝে বিতরণ করছে, এমন অভিযোগ আছে। এ অভিযোগ খণ্ডন করে ৬ ব্যাংক ঋণ বিতরণ করছে। কিন্তু বাকি ১২টি ব্যাংক ঋণ বিতরণ শুরু করেনি।