শুরুর আগেই মুখ থুবড়ালো

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বিদেশমুখী শ্রমিকদের ঋণ তহবিল

শুরুর আগেই মুখ থুবড়ালো

জাফর আহমদ ১০:২২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৪, ২০১৮

print
শুরুর আগেই মুখ থুবড়ালো

শ্রমিকরা বিদেশে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় টাকা সংগ্রহের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই ভিটেমাটি বিক্রি করেন। প্রবাসে রোজগার করে দেশে টাকা পাঠালেও বিক্রি করা সম্পত্তি আর ফেরত পান না তারা। এ জন্য যেসব শ্রমিক বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে বিদেশে যেতে চান তাদের কম সুদে ঋণ দিতে তহবিল গঠন করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতকার কারণে তহবিল গঠনের ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

পুনঃঅর্থায়ন সম্পর্কিত বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিটির একজন সদস্য জানান, যেসব ব্যাংক বিদেশমুখী শ্রমিকদের ঋণ দেয় তাদের মধ্যে ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক’ দিচ্ছে মোট ঋণের ৯৫ ভাগ। বাকি ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক বিদেশমুখী শ্রমিকদের জন্য প্রোডাক্ট (ঋণের ধরন) রাখলেও তারা শ্রমিকদের ঋণ দেয় না। মূলত, এ ঋণ জামানতহীন হওয়ার কারণে ব্যাংকের ম্যানজাররা ঝুঁকি নিতে চান না। এ ছাড়া বিদেশে যাওয়ার বৈধ কাগজপত্রের বিপরীতে এ ঋণ দেওয়া হয়। অনেক বিদেশগামীর বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তারা ব্যাংকমুখী হন না। এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলোর সুদের হার বেশি। এসব কারণে বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হলেও, ওই টাকা নেওয়ার গ্রাহক পাওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে ব্যাংকগুলোও তেমন আগ্রহ দেখায়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সম্প্রতি বছরগুলোতে রেমিট্যান্স বাড়লেও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হঠাৎ করে কমে যায় সেই প্রবাহ। তবে এর আগের বছরগুলোতে ক্রমবর্ধমান ছিল রেমিট্যান্স। ২০১০-১১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আসে ৮২৯ বিলিয়ন টাকা, ২০১১-১২ অর্থবছরে আসে ১,০১৮ বিলিয়ন টাকা; ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১,১৫৬ বিলিয়ন টাকা; ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১,১০৫ বিলিয়ন টাকা; ২০১৪-১৫-তে আসে ১,১৮৯ বিলিয়ন টাকা; ২০১৫-১৬-তে আসে ১,১৬৮ বিলিয়ন টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কমে দাঁড়ায় ১,০১০ বিলিয়ন টাকায়। পরের বছর ২০১৭-১৮-তে বাংলাদেশ ব্যাংক নানামুখী উদ্যোগ নেওয়ার ফলে প্রবাসী আয় কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২৩১ বিলিয়ন ডলার টাকা।
এদিকে সম্প্রতি রপ্তানি বাড়লেও তার চেয়ে বেশি হারে দেশে আমদানি বেড়েছে। সরকারের নানা উন্নয়ন প্রকল্প ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ফলে আমদানি বেড়ে গেছে। বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে টান পড়ে। চলতি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৩ দশমিক ৩৬৯ বিলিয়ন ডলার, জুন মাস পর্যন্ত আমদানি ব্যয় পরিশোধ করার পর জুলাই মাসে রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক শূন্য ৭৮ বিলিয়ন ডলারে। এ সময়ে প্রবাসী আয়ের যে ধারা চলমান আছে সেটিকে আশানুরূপ মনে করছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি না করা গেলে অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। সাধারণত বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও আমদানি ব্যয় মেটানো হয় প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় দিয়ে। পাশাপাশি রিজার্ভের অব্যাহত ধারা ধরে রাখার জন্যও ব্যবহৃত হয় এই বৈদেশিক আয় ও রপ্তানি আয়। সরকার বৈদেশিক ঋণ দিয়ে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করছে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে আগামীতে এই ঋণ পরিশোধ কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ আশঙ্কায় রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তারই অংশ হিসাবে ২০১৮ সালের শেষদিকে বিদেশমুখী শ্রমিকদের কম সুদে ঋণ দিতে তহবিল গঠনে উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আগ্রহ না দেখানোয় এ উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখলো না।