সিনিয়রকে থাপ্পড় মেরে বহিস্কৃত হলেন দুই জাবি ছাত্রী

ঢাকা, রবিবার, ২২ মে ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

সিনিয়রকে থাপ্পড় মেরে বহিস্কৃত হলেন দুই জাবি ছাত্রী

রাজিউল হাসান পলাশ, সাভার
🕐 ৬:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২২

সিনিয়রকে থাপ্পড় মেরে বহিস্কৃত হলেন দুই জাবি ছাত্রী

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারার ঘটনায় স্নাতকে অধ্যয়নরত দুই ছাত্রীকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারাদেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

বহিষ্কার হওয়া ওই দুই নারী শিক্ষার্থী হলেন- সুমাইয়া বিনতে ইকরাম এবং আনিকা তাবাসসুম মিম। তারা দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে সুমাইয়াকে এক বছরের জন্য ও আনিকাকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে তাদেরকে এ শাস্তির সুপারিশ করা হয়। পরে রাত নয়টার দিকে ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেটে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সুপারিশটি আমলে নিয়ে তাদেরকে বহিষ্কারাদেশ দেয় সিন্ডিকেট। রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে রহিমা কানিজ বলেন, ছাত্রকে চড় মারার ঘটনায় অভিযুক্ত সুমাইয়া বিনতে ইকরামকে এক বছরের জন্য এবং ভুক্তভোগী ছাত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ায় আনিকা তাবাসসুমকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারের মেয়াদে তারা ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না, হলে থাকতে পারবে না, ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে না বলেও জানান তিনি।

এর আগে সোমবার (২৪জানুয়ারি) রাতে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী বটতলার রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন। এসময় সুমাইয়া তার বান্ধবী আনিকা তাবাসসুম মিমও একই রাস্তা ধরে আসছিলেন। এসময় সুমাইয়া ওই ছয় শিক্ষার্থীকে রাস্তা ছেড়ে দিতে বলেন। রাস্তা যথেষ্ট ফাঁকা থাকায় তারা সেটা তাদের জানান। এসময় সুমাইয়া উচ্চবাচ্য শুরু করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে হঠাৎ এক শিক্ষার্থীর শার্টের কলার চেপে ধরে থাপ্পড় মারেন সুমাইয়া।

ওই রাতেই প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের লিখিত সাক্ষ্য নেওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করে। প্রক্টর অফিসে উপস্থিত প্রশাসনিক ও শিক্ষক সমিতির নেতারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিষয়টির সুরহা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

যদিও সুমাইয়ার দাবি, ‘তাদের কাছে রাস্তা চাইলে তারা পাশের কাঁচা রাস্তা দিয়ে যেতে বলেন এবং অন্যরকম অঙ্গভঙ্গি করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে নেশাখোর বলেন। তাকে বারবার থাপ্পড় মারতে যাওয়ার জন্য উদ্যত হন। তার সঙ্গে থাকা বান্ধবী তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে একপর্যায়ে তাকে থাপ্পড় দিই।’

 
Electronic Paper