বাণিজ্য মেলায় পুলিশি কড়া নিরাপত্তা, ২৬ দিনে ১৩ চোরকে কারাগারে

ঢাকা, রবিবার, ২২ মে ২০২২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

বাণিজ্য মেলায় পুলিশি কড়া নিরাপত্তা, ২৬ দিনে ১৩ চোরকে কারাগারে

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ২৬তম দিন

মাহবুব আলম প্রিয়, রূপগঞ্জ
🕐 ৪:২৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২২

বাণিজ্য মেলায় পুলিশি কড়া নিরাপত্তা, ২৬ দিনে ১৩ চোরকে কারাগারে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রাজউকের অধীনে হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৬ তম আসর। আর এ মেলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অধীনে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের নেতৃত্বে প্রায় ৯ শতাধিক পুলিশ সদস্য কাজ করছেন দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায়।

৩ শতাধিক স্থায়ী সিসি ক্যামেরায়, ৩ শতাধিক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য আর ৬ শতাধিক জেলা পুলিশের গড়া নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলাবাহীনি তৎপর থাকায় দুএকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি দাবী রূপগঞ্জ থানা পুলিশের।

রূপগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি (ইন্সপেক্টর) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, মেলার সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় স্থায়ী প্যাভিলিয়নে সব সময়ই রূপগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ টীম কাজ করেছেন। মেলা শুরু হলে এখানে একটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ওই ক্যাম্পের অধীনে বিভিন্ন জেলার পুলিশ লাইন, র‌্যাব, আনসারসহ গোয়েন্দা টীমও কাজ করেছেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় স্বশরীরে সর্বদা সজাগ থেকে কাজ করেছেন। মেলার অভ্যন্তরে কিংবা প্রবেশ পথে দর্শনার্থীরা তাদের কাঙ্খিত নিরাপত্তা পেয়েছেন। তবে ক্রেতার ছদ্মবেশে মেলায় চোর ও পকেটমার প্রবেশ করেছে। এমন খবর পাওয়ার পর সাথে সাথে আমরা সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের সহায়তা করেছি।

আবার রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফ এম সায়েদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বিপিএম, পিপিএম বার স্যারের নির্দেশে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমির খসরু ও সি সার্কেল এএসপি আবির হোসেন মহোদয়দের ত্বত্তাবধানে আমরা ৯ শতাধিক পুলিশ সদস্য কাজ করছি। মেলার দর্শনার্থীদের তুলনায় বিশেষ করে সরকারী ছুটির দিন ছিলো উপচে পড়া ভীর। এ ভীরের কারনে সড়কে যানবাহন নিয়ে দুএকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ছদ্মবেশে মেলায় পকেটমার ঢুকে পরে। এদের মাঝে আমাদের টহল টীমের হাতে ১৩ জন গ্রেফতার হয়। তাদের বেশির ভাগই নারী পকেটমার। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছি। তবে চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ না দেয়ায় ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।

এদিকে বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দেখা যায়, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীর। তবে কোনরূপগ স্বাস্থ্য বিধি মানতে দেখা যায়নি দর্শনার্থীদের । মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী নিউ লাইফ হসপিটালের পরিচালক নাসরিন আলীম বলেন, কভিড ১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ১১দফা স্বাস্থ্যগত বিধি জারীর পর মেলা কর্তৃপক্ষ মাস্ক পড়াতে বাধ্য করতে কঠোর ভুমিকা নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে চালাচ্ছেন ভ্রাম্যমান আদালত। তবু দর্শনার্থীরা সচেতন নয়।

মেলার স্থায়ী প্যাভিলিয়ন ছাড়াও অস্থায়ী স্টলে বসেছে বিভিন্ন নামীয় কোম্পানীর উৎপাদিত পন্য। তবে মেলায় ক্রেতা আকর্ষণ বাড়াতে যুমনা, আরএফএল, ওয়ালটনসহ বিভিন্ন কোম্পানী ইতোমধ্যে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছেন। অনেকে তাদের পন্য বিক্রি বাড়াতে হোম ডেলিভারী সার্ভিস ফ্রি ঘোষণা করায় আগের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে বলে দাবী সংশ্লিষ্ট স্টল পরিচালকদের।

রূপসীর বাসিন্দা আতাউর রহমান সানী বলেন, এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন কেনাকেটা করছেন। নিরাপত্তার পরিবেশ ছিলো দেখার মতো।

মেলায় ঘুরতে আসা গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, মিনিস্টার স্টল থেকে একটি রাইসকুকার কিনে হাতে করে বেরুচ্ছিলাম। ভীরের মাঝে কে বা কাহারা আমার কুকার নিয়ে চলে যায়। আমি আর লোক খুঁজে পাইনি। বাড়তি ঝামেলা মনে করে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগও দেইনাই।

খিলক্ষেতের পাতিরা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী হাফিজুর রহমান বলেন, গত ২৪ তম দিনে মেলা থেকে কিছু পন্য কেনাকাটা করে বেরুচ্ছিলাম। পরে কিছু অজ্ঞাত মহিলা দর্শনার্থী বেশে কাছে ভীরে। সে সময় আমার ব্যাগ থেকে তুর্কীস্তানের একটি দামী পন্য নিয়ে যায়। তার আর খোঁজ পাইনি।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক দর্শনার্থী জানান, মেলার প্রবেশ পথে দায়িত্বরত দক্ষিন বাগের স্বেচ্ছাসেবক শাকিল নামীয় এক ব্যক্তি ওই ছিনতাইকারী ও পকেট মার চক্রের সঙ্গে জরিত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মেলা থেকে কেনাকাটা শেষে বেরিয়ে যাবার সময় কার হাতে কেমন মালামাল থাকে তা ফোনে জানিয়ে দেয়। পরে সুযোগ বুঝে ছিনিয়ে নেয়। তবে দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবক শাকিলের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমি মাস্ক পড়াতে মাইকিংএর দায়িত্বে আছি। অন্য কোন অপরাধে জড়িত নই।
গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা বুলবুল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, মেলার শুরুতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব একটা ছিলো না। পরে থানা পুলিশ আরো তৎপর হয়েছে। মেলায় ১৩ তম দিনে মেলায় ঘুরতে গেলে আমার পার্কিং করা প্রাইভেটকার থেকে লুকিং গ্লাস ও ব্যাক লাইট খুলে নেয় অজ্ঞাত চোর। পরে এর কোন হদিস পাইনি।

মেলার পরিচালক ও রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো সচীব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, মেলার সময় প্রায় শেষ। পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় সফলতার দ্বারপ্রান্তে আমরা। তবে ভদ্রবেশি চোর চক্র সক্রিয় রয়েছে। যাদের অনেককেই ধরা যায়নি। মেলা চলাকালীন বেশ কিছু ক্রেতা অভিযোগ করেছিলেন তাদের মালামাল চুরি বিষয়ে। আমরা তাৎক্ষণিক সিসি ক্যামেরা দ্বারা চোর সনাক্ত করার চেষ্টা করেছি। পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে।

 
Electronic Paper