ফতুল্লায় ৪ শ্রমিক হত্যায় ২ জনের ফাঁসি, ৯ জনের যাবজ্জীবন

ঢাকা, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

ফতুল্লায় ৪ শ্রমিক হত্যায় ২ জনের ফাঁসি, ৯ জনের যাবজ্জীবন

মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ ৫:১০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

print
ফতুল্লায় ৪ শ্রমিক হত্যায় ২ জনের ফাঁসি, ৯ জনের যাবজ্জীবন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আলোচিত ৪ বাল্কহেড শ্রমিক হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার প্রায় ১৩ বছর পরে রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোসাম্মৎ সাবিনা ইয়াসমিন ৭ দণ্ডিতের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে শাহপরান বলগেটের মাঝিমাল্লা নাসির মিয়া, মঙ্গল, ফয়সাল ও হান্নানকে গলাকেটে হত্যা এবং ডাকাতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাজুল ইসলাম ও মহি ফিটারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এবং অপর ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- চাঁন মিয়া, দুলাল মিয়া, মজিবর, শফিকুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, আরিফ, জলিল, সাইফুল ইসলাম, দুলাল ও ইব্রাহিম।

মামলা চলাকালে দণ্ডিত ইব্রাহিম নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। পলাতক রয়েছেন- যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত জলিল, সাইফুল শফিকুল ও দুলাল।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, মামলায় ১২ আসামির মধ্যে আদালত ২ জনকে ফাঁসি ও ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একজন আসামি মামলা চলাকালীন মারা গিয়েছে। রায়ে রাষ্ট্র পক্ষ সন্তুষ্ট।

মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০০৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে পাথরবোঝাই শাহপরান বলগেট নিয়ে মুন্সিগঞ্জে খালাসের পর মেশিন নষ্ট হয়ে যায়। মেশিন ঠিক করার জন্য বলগেট এর ড্রাইভার দণ্ডপ্রাপ্ত মহি ফিটার ও তাজু ফিটারকে খবর দেয়। এ সময় বলগেটে নাসির মিয়া, মঙ্গল, ফয়সাল ও হান্নান ছিল। মেশিন ঠিক করার পরে টেস্ট করার কথা বলে বলগেটটি চরবক্তাবলী এলাকায় নিয়ে যায়। পরে বলগেটটি চর বক্তাবলীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় বলগেটটি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু বলগেটে থাকা ওদের পাওয়া যায়নি। পরে মেঘনা নদীর চরে হাত-পা বাঁধা অবস্থা মঙ্গল ও নাসিরের লাশ পাওয়া যায়। কিন্তু ফয়সাল ও হান্নানের লাশ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর শাহপরান বলগেট এর মালিক এহসান হিম বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন।

তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বদরুল আলম ৭ জনকে গ্রেফতার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দেয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা ১২ জনকে আসামি করে ২০০৯ সালে ২৬ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এ মামলায় ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।