রূপগঞ্জে শতবর্ষী গন্ধর্বপুর জামে মসিজদ

ঢাকা, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭

রূপগঞ্জে শতবর্ষী গন্ধর্বপুর জামে মসিজদ

মাহবুব আলম প্রিয়, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) ৩:১২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

print
রূপগঞ্জে শতবর্ষী গন্ধর্বপুর জামে মসিজদ

প্রাচীন সভ্যতা ও স্থাপনায় ভরপুর ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো কালের বিবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে বহুস্থানেই। এমন তালিকায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের নিদর্শনগুলোও কম নয়। এ উপজেলার মুড়াপাড়া জমিদারবাড়ি, জিনিস বাবু ও চিনি বাবুর বাড়িসহ ভোলাবোর পালবাড়ি প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে উপজেলার মুড়াপাড়া বাজার এলাকার ৪শ বছরের পুরানো শাহী মসজিদ যেমন কালের স্বাক্ষী হয়ে আজো দাড়িয়ে আছে। তেমনি ব্রিটিশ আমলে এ অঞ্চলের মুসলিমদের স্থাপত্যশৈলি ও শৈল্পিক নিদর্শন আজো ঝলমল করে দাড়িয়ে আছে রূপগঞ্জের তারাবো পৌর সভার ২নং ওয়ার্ড এলাকার গন্ধর্বপুর জামে মসজিদটি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মাত্র উনিশ শতক জমির উপর গন্ধর্বপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি দাড়িয়ে আছে। এর ৩টি গম্বুজ ও দেয়ালের গায়ে কারুকাখচিত শৈল্পিক নিদর্শনগুলো মুসল্লিদের যেমন চোখ জুরায় তেমনি দর্শনার্থীরাও দেখে মুগ্ধ হয়।

সূত্র জানায়, গন্ধর্বপুর গ্রামের বাসিন্দা বুজুর্গ শাহ শাহেব (র.) আজ থেকে শতাধিক বছর আগে এই মসজিদটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। শুরুতে মসজিদটি মাটির ঘর ছিলো। একদিকে নোয়াপাড়ার ঐতিহাসিক জামদানী পল্লি ও লতিফ বাউয়ানী জুট মিলসের শ্রমিকদের বসবাস অন্যদিকে শীতলক্ষ্যার পারে হওয়ায় তৎকালীন লঞ্চঘাট হিসেবেও ছিলো এ অঞ্চলের ব্যস্ততম ইতিহাস।

আর সমাজের বসবাসকারীদের মধ্যে সৌখিন মুসুল্লিদের সহায়তায় ১৩১৭ তে শুরু হয়ে ১৩২১ বঙ্গাব্ধে এ মসজিদের কাজ শেষ হয়। সেই থেকে মসজিদটির জৌলুস রক্ষায় এর পরিচালনা কমিটি কাজ করে আসছেন। কালের বিতর্তে জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় মসজিদটির পরিধি বাড়ানো হলেও মুল ভবনকে রাখা হয়েছে পূর্বের অবয়বেই। আর এমন পুরাতন মসজিদে মুসুল্লিরা বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন নামাজ আদায় করতে। দর্শনার্থীরাও দেখতে আসেন এর নানা নিদর্শন।

গ্রামের মুসুল্লি ও স্থানীয় সাংবাদিক আল আমিন মিন্টু বলেন, আমার পিতা ও দাদা এমনকি দাদার বাবা ও এ মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন। একই ছাঁদের তলায় এ গ্রামের আদিবাসিরা প্রায় ৫ পুরুষের স্মৃতি দেখে আসছেন যা বিরল।

কথা হয় এ মসজিদ কমিটির সভাপতি ও তারাবো পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীনের সঙ্গে তিনি বলেন, এ গ্রামের লোকজন বরাবরই সৌখিন। আমাদের পূর্ব পুরুষদের করা বেশ কিছু স্থাপনা আমরা পেয়েছি। এর মাঝে জামে মসজিদটি পেলাম। এর সৌন্দর্য্য ও স্থায়ীত্ব রক্ষায় আমরা আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যা প্রয়োগ করবো।