নিম্নমানের সামগ্রীতেই সড়ক সংস্কার

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১ | ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

নিম্নমানের সামগ্রীতেই সড়ক সংস্কার

সালাউদ্দিন রিপন, মানিকগঞ্জ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২১

print
নিম্নমানের সামগ্রীতেই সড়ক সংস্কার

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম বাজার থেকে আটিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত তিন হাজার ১০০ মিটার সড়ক সংস্কারে ঝামা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার কাজে ব্যবহৃত ঝামা ও নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে পুনরায় কাজ করতে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুল হক। একই সঙ্গে সড়ক সংস্কারে তদারকির দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসলাম হোসেন এ কাজের প্রশংসা করায় ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করায় তাকে শোকজ করেন তিনি। গত বুধবার বিকালে তিনি এ নির্দেশ দেন। তবে তার এ নির্দেশনা মানেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্পা এন্টারপ্রাইজ। বরং নিম্নমানের সামগ্রীর ওপর ইটের সুরকি দিয়ে তা ঢেকে দেওয়া হয়। দ্রুত কাজ শেষ করতে অধিকাংশ অংশ কার্পেটিং করা হয় আর বেশ কিছু অংশ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

গত মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কাটিগ্রাম বাজার থেকে আটিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৩ হাজার ১০০ মিটার সড়কে সংস্কার কাজ করছেন শ্রমিকরা। এতে তারা ব্যবহার করছেন ঝামা ও দুই নম্বর ইট। স্থানীয়রা বলছেন, এগুলোর মধ্যে শুধু দুনম্বর নয়, তিন নম্বর, চার নম্বর ইটও রয়েছে। যেগুলো রিকশার চাকায় পিষ্ট হয়ে গুঁড়া হচ্ছে মুহূর্তে। শ্রমিকরা জানান, এই কাজ তদারকি করছেন প্রকৌশলী ইসলাম হোসেন। গত বুধবার সদর উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ে গিয়ে দেখা হয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসলাম হোসেনের সঙ্গে।

তিনি জানান, ৩ হাজার ১০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ সড়কটির সংস্কার ব্যয় ১ কোটি ১৮ লাখ ৩৪ হাজার ৬০৫ টাকা। সিডিউল অনুযায়ী সড়কটির ঘনত্ব হবে ৪ ইঞ্চি ডব্লিউবিএম ও ২৫ মিলিমিটার কার্পেটিং। আর সংস্কার কাজ শেষ করতে হবে আগামী ২ মার্চের মধ্যে।

এ বিষয়ে ইসলাম হোসেন খোলা কাগজকে বলেন, কাজের মান অনেক ভালো হয়েছে। জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুল হক সংস্কার কাজ পরিদর্শন করে প্রশংসা করেছেন। এ সময় ঠিকাদারকে ডেকে এই প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার পরামর্শ দেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসলাম হোসেন। ঠিকাদার নন্দ বসাক প্রতিবেদকের পকেটে টাকা ঢুকিয়ে দিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

ওই দিন বিকেলে মানিকগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুল হককে নিম্নমানের কাজ সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রতিবেদকের কাছ থেকে ভিডিও দেখেন এবং পরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসলাম হোসেনকে শোকজ করেন ও ঠিকাদারকে তিন দিনের মধ্যে বারোয়ারি খোয়া সম্পূর্ণ তুলে নিয়ে পুনরায় কাজ করার নির্দেশ দেন।

সংস্কার কাজের সর্বশেষ অবস্থা জানতে শনিবার বিকেলে আবারো গিয়ে দেখা যায়, ঝামা ও নিম্নমানের ইট তোলা হয়নি বরং ইটের সুরকি দিয়ে সেগুলো ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তড়িঘড়ি করে অধিকাংশ সড়কে কার্পেটিং করা হয়েছে। বেশ কিছু অংশ বালু দিয়ে ঢাকা হয়েছে। তবে বাকি অংশটুকুতে এখনো ঝামা ও নিম্নমানের ইট দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুল হককে বারবার কল করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।