অন্তঃসত্ত্বাকে রড দিয়ে মারপিট-লাথি, ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে মামলা

ঢাকা, শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১ | ২ মাঘ ১৪২৭

অন্তঃসত্ত্বাকে রড দিয়ে মারপিট-লাথি, ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০২০

print
অন্তঃসত্ত্বাকে রড দিয়ে মারপিট-লাথি, ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে মামলা

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর পেটের বাচ্চা নষ্ট করার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গৃহবধূর স্বামী উপজেলার পরমেশ্বরদী গ্রামের মো. ওহিদ মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলা নম্বর-২১। ২৯ নভেম্বর, রোববার এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন গৃহবধূর স্বামী ওহিদ মিয়া। ৩০ নভেম্বর, সোমবার মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

মামলায় একই গ্রামের মো. রনি কাজী (২৭), মনেচ মৃধা (২৬), মো. মাহফুজ কাজী (২৩), আইয়ুব খন্দকার (৪২) ও মো. ছরোয়ার খানকে (৪৪) আসামি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পরমেশ্বরদী গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ২৭ নভেম্বর, শুক্রবার সকালে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। এ সময় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ শিউলি বেগমকে (৩০) বেধড়ক মারপিট করে প্রতিপক্ষ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অধিক রক্তক্ষরণ হওয়ায় আল্ট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার পেটের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। এরপরই গৃহবধূর স্বামী মো. ওহিদ মিয়া ২৯ নভেম্বর, রোববার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ৩০ নভেম্বর, সোমবার মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে গৃহবধূর স্বামী মো. ওহিদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় তার স্ত্রী হামলা ও গালিগালাজ না করার অনুরোধ জানিয়ে এগিয়ে গেলে আসামিরা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারপিট করেন। পেটে লাথি মারার পরে পড়ে গেলে পা দিয়ে পাড়িয়ে ধরেন। এতে তখনই তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খালেদুর রহমান বলেন, ‘গত ২৭ নভেম্বর পরমেশ্বদী গ্রামের শিউলি বেগম নামের এক গৃহবধূকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রিপোর্টে দেখা যায়, তার পেটের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) স্বপন কুমার বলেন, ‘গৃহবধূকে মারধর ও বাচ্চা নষ্ট হওয়ার মামলায় আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কিন্তু আসামিরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না।’