নকলার প্রবীণ শিক্ষক স্বপন কুমার বণিকের শেষ কৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

নকলার প্রবীণ শিক্ষক স্বপন কুমার বণিকের শেষ কৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি ৪:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২০

print
নকলার প্রবীণ শিক্ষক স্বপন কুমার বণিকের শেষ কৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার পৌর শহরের বাসিন্দা ঐতিহ্যবাহী নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক (গণিত) স্বপন কুমার বণিক বিএসসি মারা গেছেন। ২৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার সময় উপজেলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষ কৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্য জনিত কারণে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থতায় ভুগছিলেন। অবশেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে ৭৮ বছর বয়সে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহান উদ্দীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন, নকলা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম সুহেলসহ উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তর প্রধান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক, বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন পেশা শ্রেণীর জনগন আলাদা ভাবে শোক প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন তাঁরা।

পড়ালেখা শেষ করে ১৯৬৬ সালে তরুণ বয়সে তিনি নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্মানী পেশা শিক্ষকতায় আত্মনিয়োগ করেন। ৬০ এর দশকে আইয়ুব খান ও মোনায়েম খা বিরোধী আন্দোলনে স্বপন কুমার বণিক স্যারের ভূমিকা ছিলো লক্ষণীয়। বেসরকারি শিক্ষক তথা এমপিও ভুক্ত শিক্ষক হিসেবে সরকারি বিধি অনুযায়ী বয়সসীমা শেষ হওয়ায় ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি বাধ্যতামূলক অবসরে যান।

সকলের শ্রদ্ধা ভাজন স্বপন কুমার বণিক স্যার স্বপন বিএসসি নামে সর্বজনের কাছে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি গণিত বিষয়ের শিক্ষক হওয়া সত্বেও মাধ্যমিক শাখার সকল বিষয়ে বেশ পারদর্শী ছিলেন। স্বপন স্যার মাধ্যমিক শাখার যেকোন ক্লাসে ও যেকোন বিষয়ে পাঠদান করলে বুঝার উপায় ছিলোনা যে, তিনি আসলেই কোন বিষয়ের শিক্ষক।

তিনি ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকসহ উপজেলাবাসীর কাছে একজন প্রিয় শিক্ষক ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাইতো তাকে জাদুকরী শিক্ষক হিসেবে সকলেই জানতেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন সচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবেও তাঁর বেশ সুনাম ছিলো।