কটিয়াদীতে ঐতিহ্যবাহী ঢাকঢোলের হাট

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

কটিয়াদীতে ঐতিহ্যবাহী ঢাকঢোলের হাট

সাজন আহম্মেদ পাপন, কিশোরগঞ্জ ২:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

print
কটিয়াদীতে ঐতিহ্যবাহী ঢাকঢোলের হাট

জেলার কটিয়াদী উপজেলা সদরের পুরাতন বাজারে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও ঐতিহ্যবাহী ঢাকঢোলের হাট বসেছে। মহালয়ার দিন থেকে এ হাট শুরু হয়ে চলবে ষষ্ঠির দিন পর্যন্ত।

জনশ্রুতিতে রয়েছে, ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায়ই সর্বপ্রথম তার রাজপ্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। উপজেলা সদর থেকে ২ কিমি. উত্তরে চারিপাড়া গ্রামে ছিল রাজার প্রাসাদ। আজও রাজার আমলে খনন করা কোটামন দীঘিটির মনোরম দৃশ্য দর্শনাথীদের মুগ্ধ করে।

পূজা উপলক্ষে রাজপ্রাসাদ থেকে সুদূর বিক্রমপুর পরগনায় বিভিন্ন স্থানে বার্তা পাঠানো হতো। ঢাক-ঢোল-বাঁশিসহ বাদ্যযন্ত্রীরা নৌ-পথে আসতেন বর্তমান কটিয়াদী-মঠখোলা সড়কের পাশে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে যাত্রাঘাট নামক স্থানে।

পূজার দুই দিন আগে এদের আগমন ঘটত। পরবর্তী সময়ে পার্শ্ববর্তী মসূয়া গ্রামে বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপূরুষ হরি কিশোর রায় চৌধুরীর বাড়িতে মহাধুমধামে পূজা শুরু হয়। সেই সঙ্গে চলে বিভিন্ন পূজায় বাদ্যযন্ত্রের প্রতিযোগিতা।

দিন দিন পূজার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন জমিদারের মাঝে ঢাকের হাটের স্থান নির্ধারণ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। অবশেষে যাত্রাঘাট থেকে স্থান পরিবর্তন হয়ে ৫ কিমি. দূরবর্তী আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরবর্তী কটিয়াদী পুরাতন বাজারের বর্তমান প্রেস ক্লাবের কাছে স্থাপিত হাটটি বিরাট ঢাকের হাটে রূপ নেয়। 

বৃহত্তর ময়মনসিংহ টাঙ্গাইল, সিলেট, ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক বাদ্যযন্ত্রীরা আসতে থাকেন। দুর্গাপূজার আয়োজকরা এই হাট থেকে পূজার দু-একদিন আগে ভাড়ায় বায়না দিয়ে বাদ্যযন্ত্রীদের নিয়ে যায়।

আজও বিক্রমপুর ভাটি অঞ্চল, কুমিল্লা হাওর অঞ্চল থেকে শত শত বাদ্যযন্ত্র এ হাটে আসে। ঢাকঢোল, সানাই, বিভিন্ন ধরনের বাঁশি, কাঁশীসহ হাজার হাজার বাদ্যযন্ত্রের পসরা বসে এখানে। নাচসহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে বাদ্যযন্ত্রীরা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে থাকেন।

সাধারণত একটি ঢাক ১০ হাজার, ঢোল ৫ হাজার, বাঁশি প্রকারভেদে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ব্যান্ডপার্টি ছোট ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার এবং বড় ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় ভাড়া হয়ে থাকে। বাদ্যযন্ত্রীরা পূজামণ্ডপে বাজনা বাজিয়ে দর্শক ও ভক্তদের আকৃষ্ট করে থাকে।