হাতিয়াবে লিজের জমি বন বিভাগের নয়

ঢাকা, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

হাতিয়াবে লিজের জমি বন বিভাগের নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ১২:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

print
হাতিয়াবে লিজের জমি বন বিভাগের নয়

পাঠকপ্রিয় ও স্বনামধন্য দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকায় গত ২৪ আগস্ট ‘গাজীপুরে কুখ্যাত বনদস্যু আবুল কাশেম গ্রেফতার’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আবুল কাশেম। তিনি গত ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত ‘আইনি জটিলতায় গাজীপুরের বনভূমি’ শিরোনামের ও ১৭ জানুয়ারি ‘গাজীপুরে বন দখলে ভয়ংকর সিন্ডিকেট’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদেরও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রকাশিত সংবাদগুলো বানোয়াট, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কাল্পনিক। এসব অসত্য সংবাদের অবতারণা করা হয়েছে শুধু আমাকে (আবুল কাশেম) ও আমার লোকদের আর্থিক ক্ষতি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিবাদলিপিতে আবুল কাশেম বলেন, প্রকৃত সত্য হচ্ছে, গত ২৩ আগস্ট ফরেস্টার আবদুল মান্নান গাছ কাটার অভিযোগের নামে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে গ্রেফতারের নাটক সাজায়। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাকে গুম করা। কিন্তু সেটা ব্যর্থ হওয়ায় তার এই নাটক। যা আমি এর আগে সাক্ষাৎকারে দৈনিক খোলা কাগজসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত বলেছি। কোনো অপকৌশল করে সরকারি জায়গা লিজ পাওয়া যায় না।

ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক লিজের প্রজ্ঞাপন জারির পর আমরা ৮৭ জন আবেদন করি। লিজপ্রাপ্তির সব শর্তাবলি পূরণ করেই গাজীপুরের হাতিয়াব মৌজায় ১৮০ ও ৩৯৯নং সিএস ও এসএ দাগে ৩২.৭৪ একর জমি লিজপ্রাপ্ত হই। ২০১৩ সাল থেকে অদ্যাবধি আমরা সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করছি, চাষাবাদ করছি, গাছ লাগিয়েছি। এই জায়গাটি মূলত কোর্ট অব ওয়ার্ডস ভাওয়াল রাজ এস্টেটের।

বর্তমানে জায়গাটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে। ভূমি মন্ত্রণালয় এটি লিজের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করলে বন মন্ত্রণালয় কিংবা কোনো ব্যক্তিই এই প্রজ্ঞাপনের বিরোধিতা অথবা প্রতিবাদ করেনি। অথচ আমরা লিজপ্রাপ্ত হওয়ার পর কিছু অতিউৎসাহী বন কর্মকর্তা আমাদের কাছে চাঁদা না পেয়ে আমাদের বিরুদ্ধে বন আইনে মিথ্যা মামলা করে। সেসব মিথ্যা মামলায় আমি ও আমরা জামিনে আছি। আদালত তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র চেয়ে বারবার নোটিস পাঠালেও তারা যেমন কাগজপত্র দিতে পারছে না তেমনি নোটিসের জবাবও দিচ্ছে না।

অন্যদিকে লিজপ্রাপ্তির পরপরই বনের অসাধু লোকজন গোপনে আমাদের কাছে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অংকের চাঁদা দাবি করে আসছে। আমরা যেহেতু বৈধভাবে আছি সেহেতু আমরা কখনো কাউকে চাঁদা দিইনি। আর এটাই আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। বনের লোকদের চাঁদা না দেওয়ার খেসারত আমরা অদ্যাবধি ভোগ করে আসছি। কখনো তারা লোক লাগিয়ে আমাদের ঘর পুড়িয়েছে, কখনো গাছ কেটে নিয়ে গেছে, কখনো বাসায় ডাকাতি করেছে, কখনো একাকী পেয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে এবং সর্বোপরি ব্যক্তি আক্রোশে আমাদের নামে বন আইনে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

এছাড়া সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের নামে ভুল তথ্য, ছবি ও গুজব ছড়িয়ে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনের দৃষ্টি কাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তেমনি আবার আমাদের সামাজিকভাবে মানহানি ঘটাচ্ছে। সে সঙ্গে অর্থ ও সম্পদেরও ক্ষতি করছে। এখনো তারা আমাদের বিভিন্ন ফাঁদে ফেলার জন্য নতুন নতুন কৌশল আঁটায় ব্যস্ত রয়েছে। এ সবের হুকুমদাতা হচ্ছেন রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হারুন-উর রশীদ খান। যিনি ইতিপূর্বে সালনা বিটের দায়িত্বে ছিলেন।

আর তার হুকুম বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছেন সালনা বিট কাম চেক স্টেশনের বর্তমান কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান ও সালনা বীজ বাগান কেন্দ্র কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার। তাদের হয়ে মাঠে কাজ করছেন স্থানীয় দালাল শহীদুল ইসলাম, মাহবুব মোল্লা, সফিক, আনোয়ার মেম্বার, মনির সরকারসহ আরও অনেকে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা গাজীপুর হাতিয়াব মৌজার ১৮০ ও ৩৯৯ সিএস দাগে ৩২.৭৪ একর জমি কোনোভাবেই সংরক্ষিত বনভূমির নয়। ওই দুই দাগের জমি কোর্ট অব ওয়ার্ডস ভাওয়াল রাজ এস্টেটের। তবে আরএস রেকর্ড ভ্রান্তভাবে বনের নামে লিপিবদ্ধ হওয়ায় তার সংশোধনের জন্য কোর্ট অব ওয়ার্ডস ভাওয়াল রাজ এস্টেটের পক্ষে গাজীপুর বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা নং ৩২০/২০১৫ রুজু করা হয় যা বিচারাধীন। এছাড়া চাঁদাবাজির ঘটনায় সিএমএম কোর্টে রেঞ্জার আবুল বাশার, বিট কর্মকর্তা আবদুল মান্নান, দালাল শহীদুল ইসলামসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে ধারা ৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩৮৫/৩৮৬/৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করি। সিআর ৩১/২০ নং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন আছে।

অন্যদিকে, বিবেচ্য জমির এস্টেটের পক্ষের লিজগ্রহীতাগণের পক্ষে আমি আবুল কাশেম, নালিশি জমি বন বিভাগের গেজেটে অন্তর্ভুক্তির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ৬২২/২০১৮ রুজু করি। উক্ত রিট পিটিশন বিগত ২৩/০১/২০১৮ইং তারিখে প্রাথমিক শুনানি শেষে গেজেটের বৈধতা বিষয়ে বন বিভাগের সচিবের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

এছাড়া নালিশি জমির দখল ও অবস্থানের উপর ৬ মাসের জন্য স্থিতাবস্থাদেশ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত নালিশি জমিতে বিগত ২১/১১/২০১৯ইং তারিখ থেকে আগামী এক বছরের স্থিতাবস্থাদেশের মেয়াদ বর্ধিত করা হয়। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে বন কর্মকর্তা আবুল বাশার ও আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে বিগত ১৫/০৩/২০১৯, ১৬/০৩/২০১৯ ও ২৮/০৩/২০১৯ ইং তারিখে এস্টেটের সাইনবোর্ড বিনষ্ট করাসহ ১০/১২টি গাছ কেটে নিয়ে যায় এবং ২/৩টি গাছ কেটে রেখে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩২৭/২০২০নং রিট পিটিশন মামলায় আদালত অবমাননার দায়ে কেন শাস্তি হবে না জানতে চেয়ে ৪ সপ্তাহের মধ্যে উত্তর দিতে হাইকোর্ট গত ১১/১০/২০২০ তারিখে আসামি আবুল বাশার এবং আবদুল মান্নানকে নোটিস জারি করেন।

সর্বোপরি দৈনিক খোলা কাগজে গাজীপুরের হাতিয়াব মৌজার ১৮০ ও ৩৯৯ সিএস দাগের জমি নিয়ে প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনেই আমার মতামত নেওয়া হয়নি। আমার নামে যে মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে তা প্রতিবেদকের কল্পনাপ্রসূত মাত্র। তাই আমার আবেদন আমাদের লিজপ্রাপ্ত জমি নিয়ে কোনো প্রতিবেদন কিংবা সংবাদ পরিবেশনের আগে সরেজমিন তদন্ত করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরুন। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের মতামত গ্রহণপূর্বক সরকারি ও বেসরকারি বনখেকোদের মুখোশ উন্মোচন করে বনভূমি রক্ষায় এগিয়ে আসুন।