কল রেকর্ড এমপি নিক্সনেরই: ইউএনও জেসমিন সুলতানা

ঢাকা, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

কল রেকর্ড এমপি নিক্সনেরই: ইউএনও জেসমিন সুলতানা

ফরিদপুর প্রতিনিধি ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০

print
কল রেকর্ড এমপি নিক্সনেরই: ইউএনও জেসমিন সুলতানা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরীর (নিক্সন) যে কল রেকর্ডটি শোনা যাচ্ছে, তা শতভাগ সত্য বলে জানিয়েছেন চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন সুলতানা। এর আগে মঙ্গলবার সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী তা অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। তিনি সেখানে বলেন, এটি সুপার এডিট করা, বক্তব্য আমার নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার কথাগুলো সুপার এডিট করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত কল রেকর্ডের ভয়েস আমার না। এ সময় তিনি প্রশাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, পারলে প্রশাসন এটি প্রমাণ করুক যে প্রকাশিত কল রেকর্ডটি সুপার এডিট করা নয়। তিনি এ সময় বলেন, ইইউএনও নিজেও স্বীকার করবেন যে এই কথা আমি তাকে বলিনি। তার সঙ্গে এমন কোনো কথাই আমার হয়নি। ভালো এবং সুন্দরভাবে তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউএনওর সঙ্গে আপনার কথা বলে জেনে নিন, কথাগুলো আমি এরকমভাবে বলেছি কিনা।

এ বিষয়ে ইউএনও জেসমিন সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনারা এমপি নিক্সন মহোদয়ের যে কল রেকর্ডটি শুনছেন, তা শতভাগ সত্য। এমনকি প্রকাশিত কল রেকর্ডের দাড়ি-কমা পর্যন্ত সঠিক। এখানে এডিট করার কোনো প্রশ্নই নেই। আপনারা যা শুনেছেন তিনি ওভাবেই আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি যখন এসিল্যান্ডকে হুমকি দেন, তখন আমি তার নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি তাৎক্ষণিক লিখিতভাবে ডিসি স্যারকে অবগত করি এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের অডিও ক্লিপটি প্রেরণ করি।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অতুল সরকারকেও হুমকি দিয়েছিলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন। চরভদ্রাসনের ইউএনওর ফোনে ফোন করে গালিগালাজ করেন ভাঙা উপজেলার এসিল্যান্ডকে। চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত শনিবার এ দুটি ঘটনা ঘটে। এ দুটি ঘটনার ভিডিও এবং অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ফরিদপুর জেলা শাখা গত রোববার সভা করে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়েছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ ঘটনায় নিন্দা প্রস্তাব আনা হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফরিদপুর চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে একতরফাভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। যদিও পরবর্তীতে দিনের ভোটের লাইনের সঙ্গে কয়েকটি কেন্দ্রের রেজাল্টের কোনো মিল চোখে পড়েনি। কেন্দ্রগুলোতে বিজয়ী প্রার্থীর এজেন্টরা কক্ষের ভেতর ভোট দিয়ে বাক্স ভরে দেন বলে অভিযোগ করেন ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী কে এম ওবায়দুল বারী দিপু। তিনি এ নির্বাচনের ফল বয়কট করেন।

নির্বাচনে পরাজিত অপর প্রার্থী ফয়সাল হাসান শাওন বলেন, নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি ভোট কেন্দ্রে আমাদের এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়। এরপর ইচ্ছামতো তাদের এজেন্ট ও কক্ষের ভেতর থাকা দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তারা মিলে ভোট দিয়ে বাক্স ভরে দেন। তিনি বলেন, এসব ভোট কেন্দ্রে ভীতি ছড়িয়ে ভোটারদের আসতে বাধা দেওয়া হয়।