বার বার হামলার শিকার সাভার ফরেস্ট অফিস

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

বার বার হামলার শিকার সাভার ফরেস্ট অফিস

তানজেরুল ইসলাম, সাভার থেকে ফিরে ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

print
বার বার হামলার শিকার সাভার ফরেস্ট অফিস

একের পর এক হামলায় পর্যুদস্থ ঢাকার সাভারের বন বিভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত তিন মাসে তিনবার দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন তারা। পুলিশি সহযোগিতা চেয়েও পাচ্ছেন না বলে রয়েছে অভিযোগ। যদিও গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে সাভারের ওই সাব-বিট কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের খবরে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তবে তার আগেই পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এদিকে গত জুলাই মাসে অভিযান পরিচালনার সময় সহকারী বনরক্ষক সাজেদুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হলে গ্রেফতারের আগেই জামিন পেয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। জামিনে বেড়েছে তাদের দাপট। পরে আরেকটি ঘটনায় বন বিভাগের করা মামলার এক মাস কেটে গেলেও গ্রেফতার হয়নি কেউ। প্রকাশ্যেই ঘুরছে আসামিরা।

জানা যায়, ঢাকা সাভার উপজেলার ছোট কালিয়াকৈর মৌজার বটতলা এলাকায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে ফরেস্ট বিট অফিস। গাজীপুর কালিয়াকৈর রেঞ্জের বারুইপারা বিটের অধীন সাভারের এই সাব-বিট। বনভূমি লিজকাণ্ডে চিহ্নিত বনস্যুদের জবরদখল ঠেকাতে সাভারের সাব-বিটকে পূর্ণাঙ্গ বিট হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে বন বিভাগ। শেষ হয়েছে কার্যালয়ের ভবনের নির্মাণকাজও। সাভারের এই সাব-বিট বন বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বিটে রূপান্তরিত হলে ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য কমে যাবে আশঙ্কায় নানা ষড়যন্ত্র ও হামলা হচ্ছে বলে মনে করছেন বন সংশ্লিষ্টরা। 

সাভার সাব-বিটের ডাক বাংলো চৌকিদার দেলোয়ার হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ২০-২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সাভার অফিস ভবনে হামলা চালায়। এ সময় ওই ভবনে তিনিসহ বন বিভাগের স্টাফ জয়নাল আবেদিন ও রফিকুল ইসলাম ছিলেন। হামলাকারীরা অফিস ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং তাদের তিনজনকে কোপানোর চেষ্টা করে।

এ সময় তারা ও আরও দুইজন স্টাফ কোনো মতে পালিয়ে পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। দেলোয়ার হোসেন আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে সাইদ, ওয়াব আলী, আক্কাস ও শাহজাহান ছিল। এই গ্রুপই সহকারী বনরক্ষক সাজেদুল ইসলাম এবং বনপ্রহরী জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা চালিয়েছিল।

অনুসন্ধান বলছে, গত জুলাই মাসে সাভার ছোট কালিয়াকৈর মৌজায় বনভূমি জবরদখল ঠেকাতে অভিযান পরিচালনার সময় ঢাকা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক সাজেদুল ইসলাম হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা ওই কর্মকর্তার মাথায় আঘাতসহ বেধড়ক লাঠিপেটা করে। এ ঘটনায় সাভার থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করে বন বিভাগ। তবে আসামিরা গ্রেফতারের আগেই জামিন পেয়ে যায়। এর মাস খানেক পর গত আগস্টে সাভার সাব-বিটের প্রহরী জাহাঙ্গীর হোসেনকে বেধড়ক লাঠিপেটা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনাতেও পাঁচজনকে আসামি করে মামলা হয়। কিন্তু মামলার একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি সাভার পুলিশ।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, ‘উচ্ছেদ অভিযানে বন বিভাগ পুলিশি সাহায্য নেয় না। তারা স্বল্প জনবল নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হন।’ বনপ্রহরী জাহাঙ্গীরের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হলেও আসামিরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ানো প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম জানান, বন বিভাগ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় পুলিশি সহযোগিতা করা হবে।

অন্যদিকে, গাজীপুর কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবার অভিযান পরিচালনার আগে পুলিশি সহযোগিতা চেয়ে থানায় চিঠি দেওয়া হয়। অথচ অভিযানে পুলিশি সেবা জোটে না।’