অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের দখলে প্রয়োজনীয় সিঁড়ি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের দখলে প্রয়োজনীয় সিঁড়ি

কাদের পলাশ, চাঁদপুর ৩:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

print
অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের দখলে প্রয়োজনীয় সিঁড়ি

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের আবাসিক ভবনের সিঁড়ি দুইটি অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সিঁড়ি দুটি এখন স্টোরের মতো ব্যবহার করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন হচ্ছে।

 

অপরদিকে স্টোর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার আসবাবপত্রও নষ্ট হচ্ছে। স্টোর রুমের অভাবে বা গোডাউন না থাকায় হাসপাতালে ব্যবহারযোগ্য ও অব্যবহারযোগ্য আসবাবপত্র যেমন বিছানা, চেয়ার, টেবিল, বেড শিট, বালিশ ইত্যাদি সহ আরো অনেককিছু যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে হসপিটালের মূল দুটি সিঁড়ি এসমস্ত আসবাবপত্র ফেলে রাখার কারনে দুটি সিড়িই এখন ব্যবহার অযোগ্য। রোগীদের সাথে আসা তাদের আত্মীয় স্বজনরা এই দুটি সিঁড়ির একটিও ব্যবহার করতে পারছে না। আর তাই তাদেরকে রোগী উঠানো এবং নামানোর জন্য যে সমতল সিঁড়িটি রাখা হয়েছে তা দিয়েই উপরে বা নিচে উঠা-নামা করতে হচ্ছে।

শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সিঁড়িতে ফেলা রাখা এসমস্ত আসবাবপত্র একেবারেই ব্যবহার অযোগ্য নয়। কিছু কিছু ব্যবহারযোগ্য আসবাবপত্রও রয়েছে। ইচ্ছে করলে এসব সরঞ্জাম আলাদা করে নিলামের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আয় করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন নিলাম না হওয়ায় এসমস্ত আসবাবপত্র রাখার জায়গার সংকটে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিশেষ করে হাসপাতালের প্রবেশদ্বারের পূর্বপাশের সিঁড়িটি বন্ধ থাকার কারণে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে হাসপাতালে আসা রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের। কারন জরুরী প্রয়োজনে মেডিসিন নিতে নিচে নামতে হলে তাদেরকে রোগীদের ব্যবহারের সমতল সিঁড়ি ব্যবহার করতে হয়। এজন্য রোগী উঠানোর সমতল সিঁড়িটি সবসময় ব্যস্ত ও জনাকীর্ণ থাকে। আর এতে করে অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের ওয়ার্ডে উঠাতে গিয়েও বিরম্বনায় পড়তে হয়।

এ নিয়ে হাসপাতালে আসা সাধারণ মানুষের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে সামাদ খান নামের একজন দর্শনার্থী জানান, সিঁড়িগুলো আসলে কি কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে জানি না। তবে এই কাজটি করা ঠিক হয়নি। দ্রুত সিঁড়িগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভর্তি হওয়া এক রোগীর আত্মীয় জানান, আইসোলেশন ওয়ার্ডের সাথের সিড়িতো দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রাখা আছে। বাকি ছিল এটি। এখন এই সিঁড়িটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিঁড়িগুলো পরিষ্কার করে ব্যবহারের জন্য খুলে দিলে ভালো হয়। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।

এই বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হাবিব-উল-করিম জানান, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালটি মাত্র দুই থেকে আড়াই একর জায়গায় নির্মিত। যেখানে উপজেলার হাসপাতালগুলো পাঁচ থেকে ছয় একর জায়গায় নির্মাণ হয়েছে।

গোডাউন নির্মাণে যে পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন এখানে ঠিক সেই পরিমান জায়গা নেই। তাই আমাদেরকে গোডাউন তৈরি করতে বলা হলেও আমরা জায়গা সংকটের কারণে পারছি না। আর নিলাম প্রক্রিয়াটিতে কিছু সময় লাগে। আমরা নিলামের জন্য আবেদন করেছি। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি এ সমস্ত অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিলাম করতে সক্ষম হবো।