বকশীগঞ্জে সাত শিক্ষকের দুর্নীতি

ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮ আশ্বিন ১৪২৭

বকশীগঞ্জে সাত শিক্ষকের দুর্নীতি

মিঠু আহমেদ, জামালপুর ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

print
বকশীগঞ্জে সাত শিক্ষকের দুর্নীতি

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসে একের পর এক দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে। যেন দেখার কেউ নেই। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মদদে বরাবরই কিছু শিক্ষক তাদের ক্ষমতা জাহির করতে শিক্ষা কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করে রেখেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু বলতে গেলে বা প্রতিবাদ করতে গেলে বিপাকে পড়তে হয় সাধারণ ও নিরীহ শিক্ষকদের। ক্ষমতাধর ওই শিক্ষকরা শিক্ষা অফিসকে জিম্মি করে গড়ে তুলেছেন নিজেদের একক সিন্ডিকেট। তবে কিছু স্বাধীনচেতা শিক্ষক এর প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় শিক্ষকরা জানান, সম্প্রতি বকশীগঞ্জ উপজেলার সাতজন শিক্ষকের দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করেছেন এক প্রধান শিক্ষক। গত ৯ জুুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ওই অভিযোগটি গৃহীত হয়।

ওই সাত শিক্ষকের মধ্যে পাঁজনের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে জমা রয়েছে। আবার অজ্ঞাত কারণে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত থেমে গেছে। কোনো কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি, শিক্ষা অফিসে দালালি, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দল বেঁধে আড্ডা, বদলি বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অন্য এক শিক্ষককে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে আরেক শিক্ষকের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন প্রভাবশালী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাধিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তারিকুজ্জামান ছোটন, সহকারী শিক্ষক প্রনব কুমার সেন, পলাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতাবুজ্জমান হেলাল।

কুশলনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম দুর্নীতি দমন কমিশনে যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন, তারা হলেন- চালাকপাড়া নুর মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএইচএম কামরুজ্জামান লিটন, পলাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতাবুজ্জমান হেলাল, চর আইরমারী আক্কাছ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন, গোয়ালগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রণব কুমার সেন, সাধুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সোনাইতুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল হালিম।

এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতি বিদ্যালয়ে স্লিপ প্রকল্পের কাজের জন্য চাঁদা, ওয়াশব্লক কাজের জন্য চাঁদা, ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য চাঁদা, শহীদ মিনার নির্মাণের ঠিকাদারি নিয়ে কাজে অনিয়মসহ বিভিন্ন বদলি বাণিজ্য করে থাকেন বলে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম তার অভিযোগে উল্লেখ করেন। তিনি ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছেও একটি অভিযোগ এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।