বৃদ্ধা মা’কে বাইরে রেখে ঘরে তালা দিয়ে কর্মস্থলে সন্তান!

ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

বৃদ্ধা মা’কে বাইরে রেখে ঘরে তালা দিয়ে কর্মস্থলে সন্তান!

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি ৯:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০২০

print
বৃদ্ধা মা’কে বাইরে রেখে ঘরে তালা দিয়ে কর্মস্থলে সন্তান!

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মা’কে ঘরের বাইরে রেখে ঘর তালা দিয়ে কর্মস্থলে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সন্তানের বিরুদ্ধে। মা নয়ন তারা সেন (৬৫) এখন মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে রাত কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবী, সম্পত্তি সংক্রান্তে বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছে। এদিকে হতভাগা বৃদ্ধা মায়ের দাবী, গত ৫ দিন আগে আমাকে ঘরের বাইরে রেখে ঘর তালা দিয়ে চলে গেলেও অদ্যবধি কোন আমার কোন খোঁজ খবর রাখেনি। এমনকি আমি কি খাচ্ছি, কোথায় রাত কাটাচ্ছি সে খবরও নেয়নি আমার সন্তান সুমন সেন।

বালিয়াকান্দির জঙ্গল ইউনিয়নের জঙ্গল গ্রামের মৃত ভবেন্দ্রনাথ সেন এর পুত্র সুমন সেন (৩৫) গত সোমবার এই অমানবিক ঘটনা ঘটান। তবে সন্তান সুমন সেনের দাবী তার মা’কে সে তার কর্মস্থলের ভাড়া বাসায় রাখতে চান। অভিযুক্ত সুমন সেন একটি বেসরকারী ওষুধ কোম্পানীতে চাকুরী করেন। বর্তমানে তিনি পাংশায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।

শুক্রবার দুপুরে নয়ন তারা সেনের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরে তালা ঝুলছে, জনশূণ্য। পাশের বাড়ীতে পাওয়া যায় নয়ন তারা সেন (৬৫) কে। তিনি জানান, আমার ছেলে সুমন গত সোমবার আমাকে ঘরের বাইরে রেখে পাংশা বাসায় চলে যায়। আমি কি ভাবে কোথায়ও থাকবো, কি খাবো সেটার খোঁজ নিচ্ছেনা আমার সন্তান কিংবা পুত্রবধু।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ভবেন্দ্রনাথ ও নয়ন তারা সেনের নামে বসতভিটাসহ উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে। যার বাজার মূল্য লক্ষ লক্ষ টাকা। সেই সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি সংক্রান্ত বিষয়ে পারিবারিক কলহ রয়েছে। ভবেন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর থেকে সুমন তার মায়ের ঠিকমতো খাবার দেয় না।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজে ওই বিধবা মহিলার খোজখবর নিয়েছি। তিনি আমার কাছেও তার বুকে চাপা রাখা অনেক কষ্ট ও নির্যাতনের কথা বলেছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ভুক্তভোগী নয়ন তারা সেন বলেন, ‘গত সোমবার আমার ব্যবহৃত সামগ্রী ঘর থেকে বাইরে রেখে ঘর তালা দিয়ে পাংশা ভাড়া বাসায় চলে যায়। আমি কোথায় ঘুমাবো, কি খাবো সে বিষয়ে তার চিন্তাই নেই। এমনকি যাওয়ার পর আমার খোঁজও নেয়নি। সে আমাকে পাংশা ভাড়া বাসায় নিয়ে যেতে চায়। এর আগে আমি স্বামীসহ সেখানে থেকেছি, খাওয়ার কষ্টসহ পুত্রবধু মানষিক নির্যাতন করে।

এসময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামীর শেষ ইচ্ছেও সুমন পূরণ করতে দেয়নি। এখন আমার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটছে, মানুষের বাড়ীতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। বিষয়টি আমি জঙ্গল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি। আমি এর স্থায়ী বিহিত চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন সেনের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মা’কে কোথায় রাখবো, কি করবো, সেটা আমার বিষয়। আপনাদের ব্যাপার না। মা’কে বাইরে রেখে ঘর তালা দেয়ার কথা স্বীকার করে লাইন কেটে দেন।

জঙ্গল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, নয়ন তারা সেন আমাকে বলেছিলো, তাদের মা-সন্তানের বিষয়। তারপরও আমি সুমনকে তার মায়ের সাথে ভাল আচরন করার কথা বলেছিলাম। আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম আজমল হুদা ঘটনাটি শুনে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি দু:খজনক। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি, তবে ভুক্তভোগী থানায় এসে অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ভুক্তভোগী বৃদ্ধার খোঁজ খবর নিচ্ছি। যদি ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।