একসঙ্গে ১২ জনের জানাজা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭ আশ্বিন ১৪২৭

একসঙ্গে ১২ জনের জানাজা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ৩:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৬, ২০২০

print
একসঙ্গে ১২ জনের জানাজা

নেত্রকোনার মদন উপজেলার উচিতপুর হাওড়ে নৌকাডুবিতে নিহতদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সোয়া ৬টায় ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কোণাপাড়া ঈদগাহ মাঠে ওই গ্রামের ১২ জনের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের দাফন হয়। নিহতদের মধ্যে ১৫ জনই ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাসিন্দা। বাকি দুইজনের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে।

একই পরিবারের সাতজনকে একসঙ্গে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পরিবারের অবিভাবক মাদরাসায়ে মারকাজুস সুন্নাহর মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমানকে মাদরাসা প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে। এছাড়াও নিহত অন্যদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় গৌরীপুরের নিহত দুইজনকে দাফন করা হয়েছে।

এর আগে নিহতদের মরদেহ বুধবার (৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাদরাসা প্রাঙ্গণে আনা হয়। এ সময় সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। চারদিকে শুধু কান্নার শব্দ শোনা যায়। নিহতদের পরিবার আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারি ওঠে পরিবেশ।

নিহতরা হলেন- মাদরাসায়ে মারকাজুস সুন্নাহর মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান (৪৫), তার দুই ছেলে হাফেজ মাহবুবুর রহমান আসিফ (১৫), মাহমুদুর রহমান (১২), ভাগ্নে রেজাউল করিম (১৫), ভাতিজা জোবায়ের (২০), জোনায়েদ (১৭), ভাতিজি লুবনা (১৩), জুলফা (৭), চরখরিচা গ্রামের কৃষক ইসা মিয়া (৪০), তার ছেলে শামীম (১০), কোনাপাড়া গ্রামের মাদরাসা শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম (৩৮), হামিদুল (৩৫), সাইফুল ইসলাম রতন (৩০), জহিরুল ইসলাম (৩৫), চরগোবিন্দপুরের তালেব মেম্বারের ছেলে শহিদুল (৪০), গৌরীপুর উপজেলার ধোপাজাঙ্গালিয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে শফিকুর রহমান (৪০) ও তার ছেলে সামাআন (১০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো ঈদের পরপরই আনন্দ ভ্রমণে যায় ময়মনসিংহ সদরের মাদরাসায়ে মারকাজুস সুন্নাহসহ স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সদরের চরভবানীপুর এলাকার সেই রীতি জারি ছিল করোনাকালেও। মাদরাসা প্রধান মাওলানা মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে কোনাপাড়া গ্রামের মাদরাসা শিক্ষকদের মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার ‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত উচিতপুর হাওরের উদ্দেশ্যে বের হয় ৪৮ জনের একটি দল। এদের বেশিরভাগই শিশু-কিশোর। উচিতপুর পৌঁছে সেখানকার নৌ ঘাট ছেড়ে যাওয়ার কিছু পরেই হাওরে ডুবে যায় তাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি। খবর পেয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। একে একে উদ্ধার হয় ১৭টি মরদেহ।