করোনায় পিছু হটেননি লটকন চাষিরা

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

করোনায় পিছু হটেননি লটকন চাষিরা

খন্দকার শাহিন, নরসিংদী ১০:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ০১, ২০২০

print
করোনায় পিছু হটেননি লটকন চাষিরা

করোনাভাইরাসের কারণে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে যখন স্থবিরতা দেখা দিয়েছে ঠিক সেই সময়ে করোনা মোকাবেলা করেও নরসিংদীর লটকন চাষিরা পিছ পা হননি। তারা সাফল্যের সঙ্গে গাছে লটকন ফলিয়েছেন।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ বছর ১৬১০ হেক্টর জমিতে লটকন গাছে ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হলেও করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাজার মূল্য কিছুটা ওঠানামা করছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় রয়েছে বেশিসংখ্যক লটকন বাগান। এছাড়া, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলায় লটকন চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন চাষিরা। অল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে এসব উপজেলায় ব্যাপক হারে লটকন চাষ করা হয়েছে। এবার লটকন   চাষে পরিববারের সঙ্গে শ্রম দিচ্ছেন শিক্ষিত যুবকরা।

বেলাব উপজেলার বারৈচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লটকন কিনতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন। এবার প্রতি কেজি লটকন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকায়।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শোভন কুমার ধর জানান, নরসিংদীর লটকন সুস্বাদু ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে লটকনের চাহিদা। আর্থিক লাভের কারণে চাষিদের মধ্যে লটকন চাষে উৎসাহের পাশাপাশি প্রতিবছরই এখানে বাড়ছে বাগানের সংখ্যা।

বর্তমানে লটকন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন প্রশিক্ষিত তরুণ ও যুবকরা। আর তাদের পরিচর্যায় লটকন গাছের গোড়া থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ গাছেই লটকন ফলন হয়। তা বড় হতে সময় নেয় ৩ থেকে ৪ মাস। নরসিংদী থেকে লটকন রপ্তানিও হচ্ছে। এ মৌসুমে নরসিংদীতে প্রায় ১৬১০ হেক্টর জমিতে লটকন গাছে ফলন হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে লটকন গাছে ১৫ টন লটকন ফলে। পাইকারি বাজারে লটকনের ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হবেন চাষিরা।