ঝুঁকি বাড়ছে রূপগঞ্জে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৬ আশ্বিন ১৪২৭

ঝুঁকি বাড়ছে রূপগঞ্জে

আক্রান্তের সংখ্যার হিসাবে গরমিল, তথ্য গোপন করছে রোগী

মাহবুব আলম প্রিয়, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) ৪:২১ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

print
ঝুঁকি বাড়ছে রূপগঞ্জে

করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। এ উপজেলায় পাঁচ শতাধিক মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প কারখানা থাকায় ঘনবসতিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে আক্রান্তরা তাদের তথ্য গোঁপন করায়।

এদিকে একই উপজেলার বাসিন্দা কিংবা ভাড়াটিয়ারা করোনা উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা দিতে যাচ্ছেন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে, কিংবা জেলা শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে আক্রান্তের প্রকৃত তথ্য অজানা থেকে যাচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১২৫ জন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছেন ১১ জন। তবে কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ফয়সাল জানান, গত ১৬ মে পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সংগ্রহ করা এক হাজার ২২৭টি নমুনা থেকে ১৩৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে ২৪ জন ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ পর্যন্ত ১১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। এখনও ১৩ জনের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালটিতে। এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনজন। আক্রান্তদের মাঝে পুলিশ সদস্য রয়েছেন ১৫ জন।

করোনার নমুনা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য সহকারী উত্তম সেন জানান, রূপগঞ্জে যারা নমুনা দিতে আসেন তাদের মৌখিক ঠিকানার ভিত্তিতে ৭০ শতাংশই বিভিন্ন অঞ্চলের। আর বাকিরা স্থানীয়।

উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের জরিপে দেখা গেছে, গত ১৬ মে পর্যন্ত উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নে কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত দাউদপুরে দুজন, রূপগঞ্জ সদরে ১৫ পুলিশ সদস্যসহ ২৩ জন। কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় দুজন, গোলাকান্দাইলে সাতজন, ভুলতায় ১০ জন, মুড়াপাড়ায় ২২ জন, কায়েতপাড়ায় ১১ জন, তারাবো পৌরসভায় ২৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সাইদ আল মামুন বলেন, তথ্য গরমিল থাকা স্বাভাবিক। কারণ মানুষ আক্রান্ত হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে জানায় না। করোনা পজেটিভ হয়ে মারা গেলেও অনেকে জানাতে আগ্রহী হচ্ছে না। এভাবে গোপন করতে থাকলে ভয়াবহভাবে বেড়ে যাবে করোনা সংক্রমণ।